TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

উচ্চদক্ষ কর্মী আনতে ভিসা নীতিতে শিথিলতা, কিছু ফি ফেরত দেবে যুক্তরাজ্য

বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং উচ্চদক্ষ জনশক্তি যুক্তরাজ্যে আনতে ভিসা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস। মঙ্গলবার বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিতে দাভোস সফরের অংশ হিসেবে তিনি কিছু আন্তর্জাতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ভিসা ফি ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করবেন।

 

চ্যান্সেলরের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো তথাকথিত ‘ট্রেইলব্লেজার’ বা অগ্রণী বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাজ্যে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় উচ্চদক্ষ কর্মী আনার ক্ষেত্রে ভিসা ফি আংশিক বা সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে অভিবাসী কর্মী নিয়োগের জন্য স্পনসর হিসেবে স্বীকৃতি পেতে যে সময় লাগে, তা কমিয়ে আনার কথাও জানানো হবে।

দাভোসে র‍্যাচেল রিভসের সঙ্গে থাকবেন ব্যবসা বিষয়ক সচিব পিটার কাইল। তারা বৈশ্বিক প্রযুক্তি, শিল্প ও বিনিয়োগ খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসা নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন। আগাম প্রকাশিত বক্তব্যে চ্যান্সেলর বলেন, “কিছু দেশ আপনাকে শুধু একটি সুযোগ দেয়, কিন্তু ব্রিটেন আপনাকে গতি দেয়। বিনিয়োগের জন্য যুক্তরাজ্যই বিশ্বের সেরা স্থান।”

তিনি আরও বলেন, লেবার সরকার এমন একটি অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলছে যেখানে স্থিতিশীলতা, প্রতিভা ও পুঁজি একসঙ্গে কাজ করবে। তার মতে, এই তিনটি উপাদানই দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থার মূল ভিত্তি।

দাভোসে দেওয়া বক্তব্যে রিভস শিল্পখাতে সরকারের বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরবেন। এর মধ্যে ইস্পাত শিল্প ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ এবং ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে পরিবহন অবকাঠামো নবায়নের প্রতিশ্রুতি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে।

তবে তার এই ইতিবাচক বার্তা এমন এক সময়ে আসছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে এবার যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতিনিধিদল নিয়ে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার মূল বক্তব্য দেবেন। এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্টকে দেশটির শুল্ক নীতির বিষয়ে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে সোমবার লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে ‘সিটির নতুন স্বর্ণযুগ’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেননি চ্যান্সেলর রিভস। ট্রাম্পের সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের ঘোষণায় বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে তিনি অনুষ্ঠানটি বাতিল করেন।

দাভোস সফরে প্রযুক্তি খাতের বড় কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি আতিথেয়তা খাত নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন চ্যান্সেলর। নভেম্বরের বাজেটে ব্যবসায়িক করহারে পরিবর্তনের ফলে এই খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এরই মধ্যে ১৩০টির বেশি হোটেল ও আবাসন প্রতিষ্ঠান চ্যান্সেলরকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছে যে, ব্যবসায়িক কর বৃদ্ধি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বাটলিন্স, হিলটন, ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনাল ও ট্রাভেলজসহ বড় ব্র্যান্ডগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত পরিবর্তন তাদের টিকে থাকার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা প্যাকেজের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো বিস্তারিত ঘোষণা আসেনি। এর আগে শীতকালীন জ্বালানি ভাতা, কল্যাণ খাতে ব্যয় এবং কৃষিজমির উত্তরাধিকার কর নিয়ে ট্রেজারিকে একাধিকবার অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে লেবার পার্টির প্রতি সমর্থন কমছে এশিয়ান ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের

গণপরিবহনে পোকামাকড়ের উপদ্রবঃ লন্ডনের জন্য লজ্জাজনক দৃশ্য

যুক্তরাজ্য কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ নয়: বরিস জনসন

অনলাইন ডেস্ক