22.3 C
London
September 30, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

একজন গর্বিত মুসলিম হিসেবে আমি গর্বিত ব্রিটিশওঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, তিনি একজন গর্বিত মুসলিম হওয়ার পাশাপাশি গর্বিত ব্রিটিশ। লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ন্যায়বিচারই যুক্তরাজ্যের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখে এবং একটি ন্যায়সংগত সমাজ মানুষকে অন্যদের প্রতি আরও উদার ও সহনশীল করে তোলে।

নিজের পারিবারিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শাবানা মাহমুদ বলেন, তার বাবা-মা গ্রামীণ কাশ্মীর থেকে যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন উন্নত জীবনের সুযোগ ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায়। তার ভাষায়, বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে এসে নতুন জীবন গড়ে তোলা এবং দেশের সমাজ ও অর্থনীতিতে অবদান রাখা মানুষদের স্বাগত জানানো হয়েছিল।

শাবানা মাহমুদ বলেন, একজন মানুষ একই সঙ্গে মুসলিম এবং ব্রিটিশ পরিচয় ধারণ করতে পারেন। তার মতে, মানুষ যখন নিজেদের নিরাপদ ও ন্যায়সংগত পরিবেশে মনে করে, তখন অন্য সম্প্রদায়ের অস্তিত্বকে নিজেদের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে না এবং সমাজে সহনশীলতা বাড়ে।

অভিবাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সীমান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অপরাধী চক্রের হাতে মানুষের ভাগ্য ছেড়ে দেওয়া যেমন ন্যায়সংগত নয়, তেমনি যুদ্ধ ও নিপীড়নের শিকার প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নিরাপদ ও বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে আসার সুযোগ না থাকাও ন্যায়সংগত নয়।

ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা বন্ধে সরকারের পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। শাবানা মাহমুদের দাবি, যুক্তরাজ্য ৪৮ হাজারের বেশি অবৈধ চ্যানেল পারাপারের প্রচেষ্টা ঠেকিয়েছে এবং ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে ছোট নৌকায় আগমন ২০২১ সালের পর সবচেয়ে কম ছিল। এগুলো তার বক্তব্যে সরকারের কার্যক্রমের পরিসংখ্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

একই সঙ্গে তিনি জানান, সরকার নতুন করে সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত নিরাপদ ও বৈধ শরণার্থী পথ চালু করছে। অক্টোবর থেকে দাতব্য ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো শরণার্থী স্পনসর করার জন্য আবেদন করতে পারবে। স্থানীয় কমিউনিটির মাধ্যমে শরণার্থী গ্রহণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে শরণার্থী শিক্ষার্থীদের স্পনসর করার ব্যবস্থাও এর আওতায় থাকবে।

এ ছাড়া যুক্তরাজ্য সরকার জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার সঙ্গে অংশীদারত্বে ইউকে রিসেটেলমেন্ট স্কিম পুনরায় চালু করেছে। ব্রিটিশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় যুদ্ধ ও নিপীড়নের শিকার প্রকৃত শরণার্থীদের নিরাপদ ও বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে।

নতুন পুনর্বাসন কর্মসূচিতে প্রায় এক-চতুর্থাংশ রেফারাল আফগান নারী ও মেয়েদের এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য হবে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক শরণার্থী সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় শরণার্থীদের শনাক্ত ও রেফার করা হবে।

শাবানা মাহমুদ বলেন, যুক্তরাজ্যে বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও ন্যায়সংগত ভারসাম্য প্রয়োজন। যারা নতুন জীবনের আশায় বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে আসেন, তাদের পাশাপাশি আগে থেকেই দেশটিতে থাকা ব্রিটিশ নাগরিকদের স্বার্থও বিবেচনায় রাখতে হবে।

স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাসের অধিকার বা সেটেলমেন্টের নিয়ম সংস্কারের প্রসঙ্গও আসে তার বক্তব্যে। তিনি বলেন, যারা দেশটিতে স্থায়ীভাবে থাকার অধিকার অর্জন করতে চান, তাদের ধারাবাহিকভাবে যুক্তরাজ্যের প্রতি অঙ্গীকার দেখাতে হবে। তবে এ বিষয়ে চলমান পরামর্শ প্রক্রিয়ায় কিছু প্রস্তাবকে অন্যায্য বলা হয়েছে—এ কথাও স্বীকার করেন তিনি।

ব্রিটিশ সরকারের অপরাধ দমন কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ড ৯ শতাংশ, গুরুতর সহিংসতা ১১ শতাংশ এবং ছুরি ব্যবহার করে ডাকাতি ১৬ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশি কার্যক্রম জোরদারে ৩ হাজার ৮০০ অতিরিক্ত কর্মকর্তা মোতায়েনের কথা জানান তিনি।

নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতার তদন্তে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রতিটি পুলিশ বাহিনীতে এ ধরনের বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা থাকবে বলে উল্লেখ করেন শাবানা মাহমুদ।

বর্ণবাদ ও ইহুদিবিদ্বেষের প্রসঙ্গ তুলে শাবানা মাহমুদ বলেন, তিনি মুখোশধারী বর্ণবাদীদের কর্মকাণ্ডে ঘৃণা ও আতঙ্ক অনুভব করেন। একই সঙ্গে ব্রিটিশ ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের কথা জানান। তার বক্তব্যে সব ধরনের উগ্রবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য তখনই প্রকৃত অর্থে ন্যায়সংগত দেশ হবে, যখন দেশটির প্রতিটি মানুষ নিরাপদ বোধ করবে। তার বক্তব্যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, অভিবাসন ব্যবস্থায় সংস্কার, বৈধ শরণার্থী পথ এবং দেশের ভেতরে নিরাপত্তা—এই বিষয়গুলোকে একই ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

লেবার সম্মেলনে শাবানা মাহমুদের বক্তব্যের অন্যতম প্রধান বার্তা ছিল, যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থায় একদিকে অবৈধ প্রবেশ ও মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, অন্যদিকে যুদ্ধ ও নিপীড়নের শিকার প্রকৃত শরণার্থীদের জন্য সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত নিরাপদ পথ রাখা হবে।

সূত্রঃ দ্য টাইমস

এমকে

আরো পড়ুন

কনজারভেটিভ সাধারণ নির্বাচনে জিততে পারবে নাঃ ঋষি সুনাক

যুক্তরাজ্যে শাবানা মাহমুদের অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তনের আভাস

অভিবাসী কেয়ার কর্মীদের প্রতি আচরণ নিয়ে তদন্তে দেরি করছে সরকারঃ আর,সি,এন