TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

এপস্টেইন ফাইলসঃ মোদির যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সফরের মধ্যস্থতায় যৌন অপরাধী এপস্টেইন

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত নতুন নথিতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এসব নথি অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী ও অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টেইন ২০১৭ সালে ভারত, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগে পর্দার আড়ালে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিলেন।

 

নথিতে দেখা যায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শিল্পপতি অনিল আম্বানি এপস্টেইনের মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল—বিশেষ করে জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেন। এ যোগাযোগের উদ্দেশ্য ছিল মোদির আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সফর ঘিরে রাজনৈতিক ও কৌশলগত সমন্বয়।

২০১৭ সালের মার্চ মাসে পাঠানো এক বার্তায় আম্বানি এপস্টেইনকে জানান, “নেতৃত্ব” তার সহায়তা চাচ্ছে। বার্তায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, মে মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফর ও ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক সামনে রেখে এপস্টেইনের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

একই সময় এপস্টেইন অনিল আম্বানিকে সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং বৈঠকের ব্যবস্থাও করেন। ইমেইল ও বার্তালাপ থেকে জানা যায়, ভারত–ইসরায়েল সম্পর্ক জোরদারে এই যোগাযোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২০১৭ সালের জুলাই মাসে নরেন্দ্র মোদি প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েল সফর করেন। এই সফরকে ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়, কারণ এতদিন আরব দেশ ও ফিলিস্তিন ইস্যুর কারণে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক অনেকটাই নীরব রাখা হতো।

মোদির এই সফরের সময় এপস্টেইন ঘনিষ্ঠভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। সফর শেষ হওয়ার দিন তিনি এক ইমেইলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লেখেন, মোদি “মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বার্থে ইসরায়েলে নেচে-গেয়ে মন জুগিয়েছেন” এবং দাবি করেন, এই কৌশল “কাজ করেছে”।

নথিতে আরও দেখা যায়, সফরের পর এপস্টেইন আম্বানিকে বার্তা পাঠিয়ে তাদের “পারফরম্যান্স” প্রশংসা করেন। এ সময় ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, মহাকাশ, কৃষি ও জ্বালানি খাতে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। একই বছরে ভারত ইসরায়েলি অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

এপস্টেইনের যোগাযোগ শুধু ইসরায়েলেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি মার্কিন রাজনীতি, সম্ভাব্য রাষ্ট্রদূত নিয়োগ, ন্যাটোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক এবং প্রভাবশালী মার্কিন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পরিচয়ের প্রস্তাবও দেন আম্বানিকে।

নথিতে দেখা যায়, এপস্টেইন নিজের বিতর্কিত পরিচয় নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং মোদির সফরের সময় আম্বানিকে আশ্বস্ত করেন যে, “অনেক মন্ত্রী একসঙ্গে থাকলে” তার উপস্থিতি তেমন চোখে পড়বে না।

এই নথি প্রকাশের পর ভারত সরকার প্রতিক্রিয়া জানায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এপস্টেইনের ইমেইলে প্রধানমন্ত্রীর ইসরায়েল সফরসংক্রান্ত মন্তব্যগুলো একজন দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর “রুচিহীন কল্পনা” এবং এগুলো গুরুত্ব দেওয়ার মতো নয়।

তবে বিবৃতিতে মোদির ঘনিষ্ঠ মহলের ব্যক্তিদের সঙ্গে এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের যোগাযোগের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করা হয়নি। অনিল আম্বানিও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টেইন ফাইলস প্রকাশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পর্দার আড়ালের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ ও প্রভাব বিস্তারের একটি অস্বস্তিকর চিত্র সামনে এসেছে, যা ভবিষ্যতে ভারত–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে।

সূত্রঃ ড্রপ সাইট নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

পুতিনের বেশে অন্তত তিনজন, দাবি ইউক্রেনের গোয়েন্দাদের

বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা আবেদনের সুবিধা বাড়িয়েছে মেক্সিকো

নিউজ ডেস্ক

এসি ছাড়াও গরমে ঠান্ডা মরু’র স্কুল