ব্রিটেনের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী ডেভিড রুবেন যুক্তরাজ্য ছেড়ে মোনাকোতে চলে গেছেন। ৮৮ বছর বয়সী এই ধনকুবেরের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৭৯০ কোটি পাউন্ড বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেভিড রুবেনের এক মুখপাত্র তার মোনাকো চলে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মোনাকোতে ব্যক্তিগত আয়কর, মূলধনী মুনাফার ওপর কর এবং উত্তরাধিকার কর নেই। এসব কর সুবিধার কারণে দেশটি বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের কাছে আকর্ষণীয় আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।
ডেভিড রুবেনের মোনাকো চলে যাওয়ার ঘটনা ব্রিটেনের অতি-ধনীদের দেশ ছাড়ার সাম্প্রতিক প্রবণতার মধ্যে সর্বশেষ ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। এর আগে ইস্পাত ব্যবসায়ী লক্ষ্মী মিত্তল সুইজারল্যান্ডে চলে গেছেন এবং হেজ ফান্ড ব্যবস্থাপক ক্রিস রোকোস এথেন্সে বসতি গড়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেভিড রুবেনের ছোট ভাই সাইমন রুবেন, যিনি ৮৫ বছর বয়সী, কয়েক দশক আগেই মোনাকোতে চলে যান। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত থাকার সময় সেখানে বসবাস শুরু করেছিলেন। বর্তমানে দুই ভাইই মোনাকোতে অবস্থান করছেন।
রুবেন ভাইদের আগে ব্রিটেনে ‘নন-ডমিসাইলড’ বা ‘নন-ডম’ কর মর্যাদা ছিল। এই ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট শর্তে বিদেশে অর্জিত আয়ের ওপর যুক্তরাজ্যের কর থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ ছিল। তবে সাবেক অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস গত বছর এপ্রিল মাসে এই করব্যবস্থা বাতিল করেন।
ব্রিটেন থেকে উচ্চ সম্পদের অধিকারী ব্যক্তিদের চলে যাওয়ার পেছনে ওই করব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি মূলধনী মুনাফা ও উত্তরাধিকার করের পরিবর্তনকেও কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে এসব পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে বিতর্ক রয়েছে।
এদিকে আগামী ২৮ অক্টোবর ব্রিটিশ সরকারের বাজেটে মূলধনী মুনাফার ওপর কর নিয়ে আরও পরিবর্তনের ঘোষণা আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন করনীতির ফলে ব্রিটেনে উচ্চ সম্পদের অধিকারী ব্যক্তিদের অবস্থানের ওপর কী প্রভাব পড়ে, সেদিকেও নজর রয়েছে।
সূত্রঃ এলবিসি
এমকে

