জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যকে ঘিরে তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কিউবাকে ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দেশটির পতন হবে বলে মন্তব্য করার সময় জাতিসংঘের অধিবেশন কক্ষ থেকে কিউবার প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প কিউবার পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তার প্রশাসন কিউবার ক্ষেত্রে ‘মৌলিক পরিবর্তন’ আনার চেষ্টা করছে।
কিউবার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও দেশটির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের চলমান চাপের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, কিউবা ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ব্যর্থ হচ্ছে’ এবং শেষ পর্যন্ত দেশটির পতন হবে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সময় কিউবার প্রতিনিধিদলের সদস্যদের অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করতে দেখা যায়। ঘটনাটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিরোধকে আবারও সামনে নিয়ে আসে।
ভাষণে ট্রাম্প আরও বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও—যিনি কিউবান বংশোদ্ভূত—কিউবার সঙ্গে ‘গভীর আলোচনায়’ রয়েছেন। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র তার নিজ ভূখণ্ডের কাছাকাছি বিদেশি প্রতিপক্ষদের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় তৈরি হতে দেবে না।
কিউবা প্রসঙ্গে বক্তব্যের পর ট্রাম্প ইরান নিয়েও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। ইরানের সঙ্গে সংঘাত ও দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কথা বলার সময় তেহরানের প্রতিনিধিদলের প্রায় সব সদস্যও অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তার সামনে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া অথবা এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিকল্প রয়েছে, যার মাধ্যমে ইরান পুনর্গঠন করে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী দেশে পরিণত হতে পারে।
তিনি বলেন, ইরানকে এমনভাবে ধ্বংস করার পথও তার সামনে রয়েছে, যাতে দেশটির ভবিষ্যৎ ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কোনো আশা না থাকে। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প একটি সমঝোতার সম্ভাবনার কথাও বলেন এবং দাবি করেন, নির্বাচনের পর একটি চুক্তি হতে পারে।
ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অটল’ অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে তিনি অন্যান্য দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রয়োগের প্রচেষ্টায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
ট্রাম্প বলেন, ‘একভাবে হোক বা অন্যভাবে’ যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য অর্জন করবে।
জাতিসংঘের ভাষণে ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও কথা বলেন। তিনি ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা এআই-এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নাম ব্যবহারের প্রস্তাব দেন।
ট্রাম্পের বক্তব্যের একটি অংশে তিনি দাবি করেন, ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামটি আরও যথাযথ। এমনকি এ ধরনের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তার নিজের ক্ষমতা নিয়েও রসিকতা করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিতে এবং আশা করা যায় বিশ্বের অন্যান্য নথিতেও ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দের পরিবর্তে ‘সুপার’ শব্দ ব্যবহার করা হবে।
তবে ভাষণের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হয়ে ওঠে কিউবার প্রতিনিধিদলের ওয়াকআউট। কিউবাকে ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করার সময় প্রতিনিধিদলের সদস্যদের অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার দৃশ্য জাতিসংঘের মঞ্চে দুই দেশের তীব্র রাজনৈতিক বিরোধের প্রকাশ্য চিত্র হিসেবে সামনে আসে।
সূত্রঃ ডেইলি মিরর
এমকে

