30.4 C
London
August 3, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

খরা ও তাপপ্রবাহে যুক্তরাজ্যে খাদ্যসংকটের শঙ্কা

দীর্ঘস্থায়ী খরা, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং পানির সংকটের কারণে যুক্তরাজ্যে কিছু খাদ্যপণ্যের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির ন্যাশনাল ফার্মার্স ইউনিয়ন (এনএফইউ)। কৃষক সংগঠনটি বলছে, টানা প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

দেশটির স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা (UKHSA) জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হতে পারে। এ কারণে আটটি অঞ্চলে তাপজনিত স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সংস্থাটি বিশেষ করে বয়স্ক, অসুস্থ এবং ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শীতের বন্যায় সময়মতো ফসল রোপণ ব্যাহত হয়। এরপর চলমান খরার কারণে অনেক এলাকায় সেচের পানির ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে। ফলে গম, বার্লিসহ বিভিন্ন শস্যের ফলন মারাত্মকভাবে কমে গেছে। অনেক কৃষক জানান, গমের গাছ স্বাভাবিক উচ্চতার অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদন খরচও উঠছে না।

এনএফইউর সভাপতি টম ব্র্যাডশ বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শুধু যুক্তরাজ্য নয়, যেসব দেশ থেকে খাদ্য আমদানি করা হয় সেসব দেশও একই ধরনের সংকটের মুখোমুখি। ফলে ভবিষ্যতে কিছু খাদ্যপণ্যের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে কৃষকদের জন্য পানি সংরক্ষণের অবকাঠামো নির্মাণে কর-ছাড় ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর মেট অফিস জানিয়েছে, চলতি বছরের জুলাই মাসে ইংল্যান্ডে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের মাত্র ৮ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে। এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে শুষ্ক জুলাই হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বর্তমানে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষ হোসপাইপ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন এলাকায় দাবানলের ঘটনাও বেড়েছে।

অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড হর্টিকালচার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (AHDB) জানিয়েছে, ২০০৬ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এবারই সবচেয়ে আগেভাগে ফসল কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। দক্ষিণ ও পূর্ব ইংল্যান্ডের বহু কৃষক স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে ফসল সংগ্রহ শেষ করেছেন। তবে অধিকাংশ এলাকায় গম ও বার্লির ফলন গত ১০ বছরের গড়ের চেয়ে কম।

এএইচডিবির সিরিয়াল ও অয়েলসিডস বিভাগের পরিচালক অ্যান্থনি হপকিন্স বলেন, প্রচণ্ড গরম এড়াতে অনেক কৃষক রাতেও ফসল কাটার কাজ করছেন। ধারাবাহিক প্রতিকূল আবহাওয়া ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের আর্থিক চাপও বাড়ছে।

এদিকে, কান্ট্রি, ল্যান্ড অ্যান্ড বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গ্যাভিন লেন বলেছেন, অনেক কৃষকের জন্য এটি শেষ ফসল কাটার মৌসুমও হতে পারে। তার মতে, পাঁচ বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো বড় খরা প্রমাণ করছে যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন ব্রিটিশ কৃষির স্থায়ী বাস্তবতা। তিনি জলাধার নির্মাণ, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন এবং দাবানল প্রতিরোধে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের খাদ্য নিরাপত্তা আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। কৃষি খাতকে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল করে তুলতে দ্রুত পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ না হলে খাদ্য উৎপাদন, কৃষকের আয় এবং দেশের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের ফিলিস্তিন স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত নিকটবর্তী, আলোচনায় ল্যামি

যুক্তরাজ্যে স্ট্রিমিং সার্ভিস ব্যবহারকারীদের উপরও ফি’স নির্ধারণ করতে যাচ্ছে

কিভাবে ক্রেডিট স্কোর ইম্প্রুভ করবেন।

নিউজ ডেস্ক