মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গাজা পুনর্গঠন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে এই আমন্ত্রণ পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
পাকিস্তান এই আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত থাকতে সম্মত হয়েছে এবং জানিয়েছে, জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী ফিলিস্তিন সমস্যার একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধান চায় ইসলামাবাদ। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই নতুন কূটনৈতিক মেরুকরণের তথ্য জানানো হয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলের টানা দুই বছরের ধ্বংসযজ্ঞের পর ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে এই ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করা হচ্ছে। ট্রাম্প নিজেকে এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা সামনে এনেছেন।
এই বোর্ডে তুরস্ক, মিসর, আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, মরক্কো, ব্রিটেন, জার্মানি, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ প্রায় ৬০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে বোর্ডের সনদে গাজার নাম সরাসরি উল্লেখ না থাকায় অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ট্রাম্প একে জাতিসংঘের একটি বিকল্প আন্তর্জাতিক কাঠামো হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যে এই বোর্ডের একটি শক্তিশালী নির্বাহী প্যানেল ঘোষণা করেছেন। এতে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ।
এছাড়া তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকেও এই বোর্ডে রাখা হয়েছে, যদিও গাজায় তুরস্কের যেকোনো ভূমিকার ঘোর বিরোধিতা করে আসছে ইসরায়েল। প্যানেলের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ সমন্বয়কারী সিগরিড কাগ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একজন মন্ত্রী। এই প্যানেলটি মূলত গাজার প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো তদারকি করবে।
এদিকে, গাজা শাসনের জন্য গঠিত ফিলিস্তিনি প্রকৌশলীদের একটি টেকনোক্র্যাট কমিটি গত শুক্রবার কায়রোতে তাদের প্রথম বৈঠক সম্পন্ন করেছে। এই কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক ফিলিস্তিনি উপমন্ত্রী আলি শাআথ। তাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ ভূমধ্যসাগরে সরিয়ে ফেলা এবং আগামী তিন বছরের মধ্যে ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো পুনর্গঠন করা।
জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ এই কমিটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি এই বোর্ডে মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব আরও জোরালো করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
সূত্রঃ রয়টার্স
এম.কে

