18.4 C
London
October 2, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেও সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বাড়ল ৮.৫৪%

দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেও সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে। এ মাসে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে ৩৯৩ কোটি ৭২ লাখ ডলার আয় করেছেন রপ্তানিকারকরা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি।

বৃহস্পতিবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সেপ্টেম্বরের রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, সার্বিক রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধির বড় অংশই এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে।

সেপ্টেম্বরে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০৮ কোটি ২৯ লাখ ডলার। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় এ আয় ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি। মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে পোশাক খাতের অংশ ছিল ৭৮ দশমিক ৩০ শতাংশ।

তবে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে রপ্তানি আয়ে এই প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ নয়, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান। তিনি বলেন, আগস্টের পর সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয় বাড়ায় তারা বিস্মিত হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং রপ্তানি নিয়েও সমস্যা ছিল।

দেশে তীব্র গ্যাস সংকট শুরু হয় গত ২১ জুলাই থেকে। এর প্রভাবে স্থানীয় বস্ত্র ও শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। পরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় শিল্পকারখানায় উৎপাদন আবার বাড়তে শুরু করেছে।

তবে মাসভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বরের রপ্তানি আয় আগস্টের তুলনায় কমেছে। আগস্টে মোট রপ্তানি আয় হয়েছিল ৪৪২ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। সেই হিসাবে সেপ্টেম্বরে আয় কমেছে ১১ দশমিক ১১ শতাংশ।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেও রপ্তানি আয়ে কিছুটা পতন দেখা যায়। জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৪৭২ কোটি ৭৪ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় প্রায় ১ শতাংশ কম। আগস্টে আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪৪২ কোটি ৯৫ লাখ ডলারে, যা আগের বছরের আগস্টের তুলনায় ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি।

তিন মাসের হিসাবে অবশ্য রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি রয়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয় হয়েছিল ১ হাজার ২৩১ কোটি ৩২ লাখ ডলার। অর্থাৎ তিন মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রেও সেপ্টেম্বরে রপ্তানি বেড়েছে। দেশটির বাজারে এ মাসে ৭২ কোটি ৪১ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি।

তবে আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমেছে ২৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। আগস্টে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ৯৪ কোটি ৮৮ লাখ ডলার।

জুলাই-সেপ্টেম্বর তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি হয়েছে ২৫৯ কোটি ১৬ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি।

সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। একই সময়ে স্পেনে ১৯ দশমিক ২৪ শতাংশ, নেদারল্যান্ডসে ১০ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং পোল্যান্ডে ৩২ দশমিক ৭৪ শতাংশ রপ্তানি বেড়েছে।

এ ছাড়া কানাডায় রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ, জাপানে ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ভারতে ১ দশমিক ৪০ শতাংশ।

অন্যদিকে জার্মানিতে রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং ফ্রান্সে কমেছে ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

সেপ্টেম্বরে তৈরি পোশাক খাত থেকে পাওয়া ৩০৮ কোটি ২৯ লাখ ডলারের মধ্যে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে এসেছে ১৭৭ কোটি ডলার। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় নিট পোশাকের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

অন্যদিকে ওভেন পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৩১ কোটি ২৯ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি।

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৭ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। এ আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৯৯৭ কোটি ৪ লাখ ডলার।

সেপ্টেম্বরে পোশাকের বাইরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতেও রপ্তানি আয় বেড়েছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ২০ দশমিক ১৯ শতাংশ। পাট ও পাটজাত পণ্যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২২ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং হোম টেক্সটাইল রপ্তানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ৫২ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ওষুধ রপ্তানিতে। এ খাতের রপ্তানি আয় বেড়েছে ৬৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানিও বেড়েছে ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

তবে কয়েকটি খাতে রপ্তানি আয় কমেছে। কৃষিপণ্য রপ্তানি থেকে আয় কমেছে ২১ দশমিক ৭০ শতাংশ, হিমায়িত চিংড়িতে কমেছে ১৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং বাইসাইকেল রপ্তানি থেকে আয় কমেছে ১১ দশমিক ৬২ শতাংশ।

এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশের মোট আয় হয়েছিল ৪ হাজার ৮০০ কোটি ১৯ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। ওই অর্থবছরে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকেও আয় কমেছিল ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

সূত্রঃ ইপিবি \ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

এমকে

আরো পড়ুন

বাংলাদেশের কাছে যুক্তরাজ্যের শেখার আছে: ব্লুমবার্গ

নিউজ ডেস্ক

কুইক রেন্টালে দায়মুক্তির বিধান অবৈধঃ হাইকোর্টের রায়

‘চলতি বছরই দেশে ফিরব’—এনডিটিভিকে শেখ হাসিনার ঘোষণা, রায়কে বললেন ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’