10.4 C
London
March 20, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকশীর্ষ খবর

গ্রিসের কঠোর অভিবাসন নীতিতে বিক্ষুব্ধ শরণার্থীরা

অভিবাসন ইস্যুতে গ্রিস কঠোর নীতি গ্রহণের প্রতিবাদে সরব হয়েছে দেশটিতে অবস্থানরত শত শত শরণার্থী৷ এমনকি দেশটির সরকার পুশব্যাক বা জোর করে ফেরত পাঠানোর মাধ্যমে আশ্রয়প্রার্থীদের ‘হত্যা‘ করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা৷

রাজধানী এথেন্সে সংসদ ভবনের সামনে শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নেন বিভিন্ন দেশ থেকে এসে গ্রিসে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীরা৷

বিক্ষোভকারীরা তাদের হাতে থাকা ব্যানারে লিখেছেন, ‘‘পুশব্যাক বন্ধ করুন, খুনিদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করুন৷’’

অপর একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ’’নিরাপরাধের রক্ত ন্যায়বিচারের জন্য আর্তনাদ করে।”

সাগরে বিভিন্ন সময় ডুবে যাওয়া অভিবাসী নৌকার দিনক্ষণগুলো তুলে ধরে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে আসেন অনেকে৷ কেউ কেউ সমুদ্রে এবং ট্রেন অভিবাসন প্রত্যাশীদের মৃত্যুর জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোটাকিসকেই দায়ী করেন৷

এসময় বিক্ষোভরত শরণার্থীরা স্লোগানে স্লোগানে বলেন, “মিতসোটাকিস, তোমার হাতে রক্ত আছে লেগে, মৃত শিশু সমুদ্রে, মৃত শিশু ট্রেনে৷’’

 

 

 

 

 

 

অধিকার সংস্থা, অভিবাসীদের মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধির প্রতিবেদন এবং ভুক্তভোগীরা দাবি করে আসলেও পুশব্যাকের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ৷

অভিবাসীদের মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ফেলিপ গঞ্জালেজ মোরালেস গত বছর বলেছিলেন, ‘‘গ্রিসে স্থল এবং সমুদ্র সীমান্তে পুশব্যাকের ঘটনাগুলো সাধারণ নীতিতে পরিণত হয়েছে৷’’

চার বছর আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে, গ্রিসের বর্তমান রক্ষণশীল সরকার অনিয়মিত পথে আসা অভিবাসন প্রত্যাশীদের ঠেকাতে তুরস্কের সঙ্গে থাকা নিজেদেল স্থল ও সমুদ্র সীমানা জোরদার করেছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রী টাকিস থিওডোরিকাকোস এই সপ্তাহে বলেছেন, কিছুদিনের মধ্য তুরস্ক সীমান্তে ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্পাতের বেড়া নির্মাণে একটি চুক্তি সই হবে৷

মার্চের শুরুতে কস দ্বীপের কাছে প্রায় ৩০ জন লোক নিয়ে একটি স্পিডবোট ডুবে গেলে একজন নারী ও একজন পুরুষ মারা যান৷ এটিই ছিল গ্রিসের জলসীমায় সবশেষ ঘটনা৷

এক মাস আগে, লেসবস দ্বীপে একটি পাথুরে উপকূলে ৪১ জন আশ্রয়প্রার্থী নিয়ে আসা একটি ডিঙ্গি ডুবে গেলে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে দুইজন মারা গেছেন৷

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, আশ্রয়প্রার্থীদের স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নে তারা জাতিসংঘ ও আফ্রিকান ইউনিয়নের সঙ্গে কাজ করছে৷ আর আশ্রয় প্রার্থীদের ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা অন্য কোনোখানে পুনর্বাসেন আগে আশ্রয় শিবিরে রাখা হবে৷

অনিয়মিত অভিবাসন প্রত্যাশীদের ঠেকাতে জানুয়ারিতে ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেছিলেন বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিশর, মরক্কো, তিউনিসিয়া এবং নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে অভিবাসন ইস্যুতে আলোচনা করতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷

অভিবাসন মন্ত্রী নোটিস মিতারাচি বলেন, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় গ্রিস গত দুই বছরে ৮ হাজারেরও বেশি অভিবাসন প্রত্যাশীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে৷

 

আরো পড়ুন

অবৈধ শরণার্থী ক্রসিংকে অপরাধীকরণ করতে পারে যুক্তরাজ্য

অনলাইন ডেস্ক

ইতালির এই দুই শহরে গিয়ে পাকাপাকি ভাবে সংসার পাতলেই মিলবে ৩০ লক্ষ টাকা

গোটা ইউরোপকে গ্যাস সংকটে ফেলতে পারে রাশিয়া!

অনলাইন ডেস্ক