ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা জোরদার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই অঞ্চলে ইসরাইলের তৈরি অ্যারোস্ট্যাট রাডার মোতায়েন, রাশিয়ার এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর বিষয়ে একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি শহরসংলগ্ন এই সরু ভূখণ্ডটি ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত। প্রায় ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত এই করিডোর ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর স্থলযোগাযোগের প্রধান সংযোগপথ। বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও চীনের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে অঞ্চলটি ভারতের সামরিক কৌশল ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের ২৬ অক্টোবরের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শিলিগুড়ি করিডোরের আকাশসীমায় নজরদারি বাড়াতে ইসরাইলি অ্যারোস্ট্যাট রাডার মোতায়েন করা হয়েছে। ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি ত্রিমাত্রিক রাডার প্রযুক্তির মাধ্যমে আকাশের অনেক উঁচু থেকে বিস্তৃত এলাকায় নজরদারি চালানো সম্ভব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অ্যারোস্ট্যাট রাডারে সাধারণত বড় বেলুনের সাহায্যে রাডার ও সেন্সরকে নির্দিষ্ট উচ্চতায় স্থাপন করা হয়। ভূমির কাছাকাছি স্থাপিত প্রচলিত রাডারের তুলনায় উঁচুতে থাকা এই ব্যবস্থা দিগন্তের ওপারে এবং নিচু দিয়ে উড়ে আসা আকাশযান শনাক্ত করতে সুবিধা দিতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি ভূপ্রকৃতিতে আকাশপথের নজরদারি বাড়াতে এ ধরনের প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে।
সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে রাডারটির নজরদারির পরিসর প্রায় ৫০০ কিলোমিটার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শিলিগুড়ি করিডোরের প্রতিরক্ষা নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথাও উঠে এসেছে। এই ব্যবস্থা দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত হয় এবং বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের হুমকি শনাক্ত ও মোকাবিলার জন্য তৈরি।
সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কিছু এলাকায় নতুন নকশার বেড়া, নজরদারি ক্যামেরা এবং উন্নত এলাকা পর্যবেক্ষণব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আসামের ধুবড়ি-সংলগ্ন বামুনি, বিহারের কিষানগঞ্জ এবং পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া এলাকায় তিনটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের দাবিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় শিলিগুড়ি করিডোরের গুরুত্ব নতুন নয়। ভারতীয় সামরিক ও কৌশলগত বিশ্লেষণেও এই অঞ্চলের সড়ক, রেলপথ, জ্বালানি সরবরাহ এবং সামরিক রসদ পরিবহনের নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা সৈয়দ আতা হাসনাইন ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলেন, করিডোরের নিরাপত্তা শুধু সামরিক প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে না; সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, গোয়েন্দা সমন্বয় এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামোর স্থিতিশীলতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, ইসরাইলি রাডার মোতায়েনের প্রতিবেদন সামনে এলেও এ বিষয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা বিমানবাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের সামরিক প্রস্তুতি ও নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার আঞ্চলিক কৌশলগত আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এসব পদক্ষেপকে কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে আসন্ন সামরিক পদক্ষেপের প্রমাণ হিসেবে দেখার মতো পর্যাপ্ত যাচাইকৃত তথ্য এখনো নেই।
সূত্রঃ এনডিটিভি\সংবাদ প্রতিদিন
এমকে

