সিলেটে স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে চীনের সম্পূর্ণ অর্থায়ন ও বিনিয়োগে ১ হাজার শয্যার একটি অত্যাধুনিক ও বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু সিলেট নয়, সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চিকিৎসা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, হাসপাতালটি নির্মাণের জন্য সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর ও হাইটেক পার্ক সংলগ্ন এলাকা প্রাথমিকভাবে পরিদর্শন করেছে একটি চীনা বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদল। তাদের সঙ্গে সরকারি প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনের সময় প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয় এবং হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে উভয়পক্ষ নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রকল্পটির সম্পূর্ণ অর্থায়ন করবে চীন। এ লক্ষ্যে চীনা প্রতিষ্ঠান ‘বাই আপ ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড’-এর প্রতিনিধিরা সম্ভাব্য বিনিয়োগ, জমির উপযোগিতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সার্বিক অবকাঠামোগত সক্ষমতা যাচাই করছেন। প্রতিনিধিদলটি হাসপাতাল নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান ঘুরে দেখে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে।
সাম্প্রতিক সফরের অংশ হিসেবে সিলেট সার্কিট হাউজে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হাসপাতাল প্রকল্পের পরিধি, বিনিয়োগ কাঠামো, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি চীনা বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানের এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হলে সিলেট অঞ্চলের মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকামুখী হওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে হৃদরোগ, ক্যানসার, নিউরোলজি, কিডনি ও অন্যান্য জটিল রোগের চিকিৎসা স্থানীয় পর্যায়েই পাওয়া সম্ভব হবে। এতে সময়, অর্থ এবং ভোগান্তি—সবই কমবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট স্বাস্থ্যখাতে একটি আঞ্চলিক হাবে পরিণত হতে পারে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য পেশাজীবীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। হাসপাতালকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও গড়ে উঠতে পারে।
চীনা বিনিয়োগে প্রস্তাবিত এই মেগা হাসপাতাল প্রকল্প এখন সম্ভাবনা থেকে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর নির্মাণকাজ শুরু হলে এটি সিলেটের স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

