ব্যাপক জনসমালোচনা ও রাজনৈতিক চাপের মুখে যুক্তরাজ্যের লেবার সরকারের বিতর্কিত আগাম বন্দি মুক্তি কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। বিশেষ করে নিহত পুলিশ কর্মকর্তা পিসি অ্যান্ড্রু হার্পারের হত্যাকাণ্ডে দণ্ডিত দুই আসামি এই কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই মুক্তি পেতে পারেন—এমন তথ্য প্রকাশের পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
সরকারের বিদ্যমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, পিসি হার্পারের হত্যার ঘটনায় দণ্ডিত অ্যালবার্ট বাওয়ার ও জেসি কোল তাদের সাজা শুরুর মাত্র ছয় বছর পরই আগাম মুক্তির সুযোগ পেতে পারতেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি, বিভিন্ন প্রচারক সংগঠন এবং নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের পক্ষ থেকে এই নীতির তীব্র সমালোচনা করা হয়। তাদের দাবি ছিল, খুনি, ধর্ষক এবং শিশু যৌন শোষণকারী অপরাধীদের কোনোভাবেই আগাম মুক্তির সুবিধা দেওয়া উচিত নয়।
স্কটল্যান্ড সফরকালে এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানান, সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল এমন বন্দি মুক্তির পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এ বিষয়ে নতুন বিচারমন্ত্রীর সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বার্নহাম বলেন, পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নীতির আওতায় কোনো বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে না। পাশাপাশি জননিরাপত্তার ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
২০১৯ সালের আগস্টে চুরি হওয়া একটি কোয়াড বাইক উদ্ধারের তদন্তে গিয়ে পিসি অ্যান্ড্রু হার্পার নিহত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা একটি গাড়িতে পালানোর সময় টো-রোপে তার গোড়ালি আটকে যায় এবং তাকে প্রায় এক মাইল গ্রামীণ সড়ক ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় অ্যালবার্ট বাওয়ার ও জেসি কোল হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন এবং হেনরি লং ঘটনায় জড়িত চালক হিসেবে শাস্তি পান।
মামলাটি বিচারাধীন অবস্থায় আদালতে প্রবেশের সময় দুই আসামির হাসাহাসি ও অশোভন আচরণের দৃশ্যও সে সময় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার আগে নিহত পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী লিসি হার্পার আগাম বন্দি মুক্তির পরিকল্পনাকে “অত্যন্ত নিন্দনীয়” বলে অভিহিত করেন। তার মতে, গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের আগাম মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি জননিরাপত্তা এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
উল্লেখ্য, পিসি অ্যান্ড্রু হার্পারের মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ব্যাপক জনমতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যে হার্পারস ল’ প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের মাধ্যমে কোনো অপরাধ সংঘটনের সময় জরুরি সেবা কর্মীকে হত্যা করলে অপরাধীর জন্য বাধ্যতামূলক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান চালু করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, আগাম বন্দি মুক্তি কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত সরকারের জন্য রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতে গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত বন্দিদের মুক্তি-সংক্রান্ত নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এম.কে

