জনগণের কাছে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে নির্বাচনে জেতার চেষ্টা করলে রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে ওয়েলস। এ ছাড়া গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভোটারদের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিকে পদ থেকে সরানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে নতুন আইনে।
গত মার্চে ওয়েলসের পার্লামেন্ট সেনেডে আইনটি পাস হয়। এর আওতায় কোনো প্রার্থীকে নির্বাচনে জয়ী করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের জন্য অপরাধের বিধান রাখা হয়েছে। তবে আইনটির এই অংশ ২০৩০ সালের আগে কার্যকর হচ্ছে না।
নতুন আইনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আচরণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। একজন কমিশনার নিজ উদ্যোগে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে পারবেন। গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে পদ থেকে সরানোর জন্য ভোটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আইনটির সমর্থকেরা একে রাজনৈতিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং রাজনীতির প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বক্তব্য ও আচরণের জন্য জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এ ধরনের আইন রাজনৈতিক বক্তব্যের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক বিতর্ককে সীমিত করতে পারে। রাজনৈতিক বক্তব্য কখন মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর হিসেবে বিবেচিত হবে, তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিতর্ক তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনটি পাসের সময় মাত্র একজন সদস্য এর বিপক্ষে ভোট দেন।
তবে নতুন আইনটি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সব ধরনের রাজনৈতিক মিথ্যা বক্তব্য নিষিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে না। বরং নির্দিষ্ট শর্তে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার বিষয়টি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা এবং গুরুতর অসদাচরণের ক্ষেত্রে নির্বাচিত প্রতিনিধিকে পদ থেকে সরানোর আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।
আইনটির বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হয়, তা পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক জবাবদিহি কতটা বাড়ে এবং বাকস্বাধীনতা নিয়ে কী ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়, তা ভবিষ্যতে স্পষ্ট হবে।
সূত্রঃ গভ.ওয়েলস
এমকে

