জ্বালানি বিলের বড় ধরনের বৃদ্ধির প্রভাবে যুক্তরাজ্যের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি জুলাই মাসে বেড়ে ২ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুনে মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ। গ্যাসের দাম প্রায় চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বাড়ায় এই মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছে।
জুলাইয়ের শুরুতে জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যসীমা ১৩ শতাংশ বাড়ানোর পর একটি সাধারণ পরিবারের বার্ষিক জ্বালানি ব্যয় গড়ে ২২১ পাউন্ড বেড়েছে। স্বাধীন জ্বালানি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কর্নওয়াল ইনসাইটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে বিল আরও চার শতাংশ বাড়তে পারে, যা ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় গ্যাস ও তেলের সরবরাহে চাপ বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি ইউরোপজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহ বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের চাহিদা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে সব খাতেই দাম বাড়েনি। জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ১ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। পাস্তা, জলপাই তেল ও তাজা ফলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে গ্রীষ্মকালীন ছাড় স্বাভাবিকের তুলনায় কম হওয়ায় পোশাকের দাম বেশি থেকেছে এবং আসবাবপত্রের দামও মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, ইরানের যুদ্ধ এখনো যুক্তরাজ্যের দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। তিনি দাবি করেন, বিদ্যুতের বিলে মূল্য সংযোজন কর কমানো এবং বাসভাড়া দুই পাউন্ডে সীমাবদ্ধ রাখার মতো পদক্ষেপ মানুষের ওপর চাপ কিছুটা কমিয়েছে। তবে বিরোধী কনজারভেটিভ দলের অর্থবিষয়ক মুখপাত্র মেল স্ট্রাইড সরকারের করনীতি ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের অভাবকে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির জন্য দায়ী করেছেন। অন্যদিকে উদার গণতন্ত্রী দলের কোষাগারবিষয়ক মুখপাত্র ডেইজি কুপার জ্বালানি বিল কমাতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মূল্যস্ফীতির প্রভাব ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের জীবনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একটি সংকট সহায়তা কেন্দ্র পরিচালনাকারী পেনি কিভিল বলেছেন, আগে মূলত ভাতাপ্রাপ্ত মানুষ খাদ্য সহায়তা নিতে আসতেন, কিন্তু এখন কর্মজীবী মানুষের সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। তাঁর ভাষায়, জ্বালানি বিল এখনো অত্যন্ত বেশি, অথচ মানুষের মজুরি ও আয় সেই হারে বাড়ছে না।
অর্থনীতিবিদদের ধারণা, সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হারে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা কম। তবে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, আগামী কয়েক মাসে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে ৩ দশমিক ২ থেকে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। যদিও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির দাম আর বেশি না বাড়লে আগামী বছরের শেষ নাগাদ মূল্যস্ফীতি আবার ব্যাংকের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি নেমে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

