9.4 C
London
February 11, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্প–নেতানিয়াহু বৈঠকঃ ইরান ইস্যুতে সমঝোতা নয়, আলোচনা চলবে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৈঠক শেষে ট্রাম্প জানিয়েছেন, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

 

ট্রাম্প বলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে জানিয়েছেন যে ইরান ইস্যুতে সামরিক সংঘাতের চেয়ে কূটনৈতিক সমঝোতাই তার অগ্রাধিকার। আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি হলে সেটিকেই যুক্তরাষ্ট্র প্রাধান্য দেবে, আর তা সম্ভব না হলে পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনা করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাংক স্টিমসন সেন্টারের বিশিষ্ট গবেষক বারবারা স্লাভিন বলেছেন, নেতানিয়াহু এই বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ কঠোর’ অবস্থান গ্রহণের দাবি তুলেছেন। তার মতে, ইসরায়েল ইরানকে অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে দেখে এবং যেকোনো উপায়ে দেশটিকে দুর্বল করতে চায়।

স্লাভিনের ভাষ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহু আদর্শগতভাবে ইরানে সরকার পরিবর্তন চান। সেটি সম্ভব না হলে তিনি নিশ্চিত করতে চান—ইরানের যেন কোনো পারমাণবিক কর্মসূচি না থাকে এবং ইসরায়েলের দিকে আঘাত হানতে সক্ষম কোনো ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গড়ে না ওঠে।

বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন। তার লক্ষ্য কূটনীতিকে ব্যর্থ করে দেওয়া এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পথ তৈরি করা।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, বৈঠকে ইরান ইস্যুর পাশাপাশি গাজার পরিস্থিতি ও সামগ্রিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নেতানিয়াহু আলোচনার সময় ইসরায়েলের নিরাপত্তা প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং উভয় পক্ষ পারস্পরিক সমন্বয় ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে একমত হন।

বৈঠক চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনা বন্ধ হচ্ছে না। ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, তিনি আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে ‘জোর দিয়েই’ বলেছেন।

এদিকে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলাদা বৈঠকে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বিতর্কিত উদ্যোগ ‘বোর্ড অব পিস’-এ ইসরায়েলের সদস্যপদে স্বাক্ষর করেন। শুরুতে গাজার যুদ্ধবিরতি তদারকির জন্য এই বোর্ড গঠনের কথা বলা হলেও, এখন এটিকে বৈশ্বিক সংঘাত সমাধানের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সমালোচকদের মতে, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে জাতিসংঘের বিকল্প বা প্রতিদ্বন্দ্বী কাঠামো হয়ে উঠতে পারে। স্থায়ী সদস্যপদের জন্য এক বিলিয়ন ডলার ফি নির্ধারণ করায় একাধিক মার্কিন মিত্র দেশ এতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এই বোর্ডে আসন পাওয়ার সময়ই নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখোমুখি রয়েছেন। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি রয়েছে। বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারসহ ইসরায়েলপন্থী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ইরান যদি এবারও চুক্তি না করে, তাহলে পরিণতি কী হবে তা তাদের জানা আছে। তিনি গত বছর জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রসঙ্গ টেনে সতর্ক বার্তা দেন।

একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হচ্ছে এবং তিনি অঞ্চলটিকে শান্তির পথে এগোতে দেখছেন। তবে বাস্তবতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলি হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠক স্পষ্ট করেছে—ইরান প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে কৌশলগত ঐক্য থাকলেও পদ্ধতি নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। কূটনীতি না সামরিক চাপ—এই দ্বন্দ্বই আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় জালিয়াতি করলে আজীবনের জন্য নিষেধাজ্ঞা

অভিবাসন আইন কঠোর করতে যাচ্ছে গ্রিস

‘ট্রাম্প ও স্টারমার’ যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করলেন