7.1 C
London
March 7, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ট্রাম্প–ফারাজ বৈঠক ঘিরে ব্রিটিশ রাজনীতিতে তোলপাড়, চাপে স্টারমার সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং যুক্তরাজ্যের বিরোধী রাজনীতিক নাইজেল ফারাজের সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে আয়োজিত এক নৈশভোজে তাদের সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রনীতি ও চাগোস দ্বীপপুঞ্জ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এই ঘটনাকে অনেক বিশ্লেষক যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ হিসেবে দেখছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সংকট ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিষয়ে ব্রিটেনের অবস্থান নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে লন্ডনের মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে প্রথমে অস্বীকৃতি জানানোয় ট্রাম্প প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

ট্রাম্প ব্রিটেনের প্রতিক্রিয়াকে “খুবই হতাশাজনক” বলে মন্তব্য করেন এবং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল “কোনো প্রশ্ন বা দ্বিধা ছাড়াই।” ব্যক্তিগত মন্তব্যে তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে বলেন, “এটা তো উইনস্টন চার্চিল নন, যার সঙ্গে আমরা কাজ করছি।”

এদিকে ফারাজের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে দল বর্তমানে ব্রিটিশ রাজনীতিতে অভিবাসন ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের আলোচনায় যুক্তরাজ্যের পরিকল্পিত চুক্তি—যার মাধ্যমে চাগোস আইল্যান্ডস মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে—তা প্রধান বিষয় হিসেবে উঠে আসবে।

এই দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্ভুক্ত ডিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। প্রথমদিকে যুক্তরাষ্ট্র এই পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানালেও সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

চাগোস ইস্যুতে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে বক্তব্য দিয়ে ফারাজ বলেন, ব্রিটিশ সরকারের এই পরিকল্পনা তাদের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং তারা এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

এদিকে ইরান সংকটকে ঘিরেও স্টারমার সরকারের সমালোচনা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্য একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়া নিয়ে দেশের ভেতরেও দ্বিধা রয়েছে। অনেক ব্রিটিশ নাগরিকই মনে করেন, যুক্তরাজ্যের উচিত আরেকটি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়া।

এর মধ্যেই সাইপ্রাসে অবস্থিত একটি ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটির ওপর হামলার ঘটনায় যুক্তরাজ্যের প্রতিক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, ইরান-সমর্থিত একটি গোষ্ঠীর হামলার আশঙ্কায় পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠলে প্রথমদিকে ফ্রান্স একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে নিরাপত্তা সহায়তা দেয়, যা লন্ডনের জন্য কূটনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে বলা হয়েছে, ইউরোপের রাজনীতিতে নতুন ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের “রাজনৈতিক মিত্রদের” সঙ্গে কাজ করে সেই পরিবর্তনকে উৎসাহিত করবে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের প্রভাব বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্প ও ফারাজের বৈঠক শুধু একটি কূটনৈতিক সাক্ষাৎ নয়; এটি যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, চাগোস দ্বীপপুঞ্জের ভবিষ্যৎ এবং যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নিয়েও নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের ETA অনুমোদন পেলেও দেশে প্রবেশে বাঁধা আসতে পারে

ব্রিটিশ শিশুরা অলসতায় বিশ্বসেরাঃ গবেষণা

স্ট্যাম্প ডিউটির প্রভাবেই যুক্তরাজ্যে বাড়ির দামে বড় পতন, দুই বছরে সর্বোচ্চ মাসিক ধস