TV3 BANGLA
আমেরিকাযুক্তরাজ্য (UK)

ট্রাম্পের কটাক্ষে উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক, স্টারমারকে ‘দুর্বল’ আখ্যা

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক নতুন করে টানাপোড়েনের মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার-কে বিদ্রূপ করে মন্তব্য করেছেন, যা দুই মিত্র দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

হোয়াইট হাউসে এক ইস্টার মধ্যাহ্নভোজে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি যুক্তরাজ্যকে মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর অনুরোধ করেছিলেন। এ সময় তিনি স্টারমারের কণ্ঠস্বর অনুকরণ করে বলেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তাকে জানিয়েছিলেন—এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে “টিমের সঙ্গে আলোচনা” করতে হবে।

ট্রাম্প বলেন, “আপনি তো প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে আবার কারো অনুমতি নিতে হবে কেন?”—এমন মন্তব্য করে তিনি স্টারমারকে পরোক্ষভাবে দুর্বল নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দূরত্বই এই উত্তেজনার মূল কারণ। যুক্তরাজ্য শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে সরাসরি অংশ নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। বিশেষ করে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে হামলার অনুমতি না দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ না পাঠানোর সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের অসন্তোষ বাড়িয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি পরিবহন এই পথ দিয়ে হওয়ায় এর কার্যত অবরোধ তেল ও গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

ট্রাম্প ইতোমধ্যে স্টারমারকে ঐতিহাসিক নেতা উইনস্টন চার্চিলের সঙ্গে তুলনা করে তাকে “সে মানের নন” বলে মন্তব্য করেছেন এবং ব্যক্তিগতভাবেও কড়া সমালোচনা করেছেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার জানিয়েছেন, তাদের সরকার জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে না যাওয়ার পেছনে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে ইরানের ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ৪০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
একই সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে, যার মধ্যে সমুদ্রপথে পাতা মাইন অপসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

এদিকে জাতিসংঘে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্সের আপত্তিতে তা দুর্বল হয়ে গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক ঐক্য গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্কেও নতুন করে ফাটল দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

ভ্যাট আইন পরিবর্তনের কারণে বন্ধের মুখে পড়তে যাচ্ছে বেসরকারি ধর্মীয় স্কুলগুলো

নিউজ ডেস্ক

অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে ‘ইনোভেটিভ পার্টনারশিপের’ পরিকল্পনায় ইটালি-ব্রিটেন

ইংল্যান্ডে শিশুর টিকা সংকটঃ জানুয়ারি থেকে নিয়মিত সূচিতে যোগ হলো চিকেনপক্স ভ্যাকসিন

নিউজ ডেস্ক