15.1 C
London
June 4, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

ঠাকুরগাঁও ও শমসেরনগর বিমানবন্দর চালুর সম্ভাবনা ক্ষীণ, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি নিয়ে নতুন আলোচনা

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর এবং মৌলভীবাজারের শমসেরনগর বিমানবন্দর পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও, সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, অন্তত বর্তমান পরিস্থিতিতে এ দুটি বিমানবন্দর চালুর বাস্তবসম্মত কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়।

গোপন একটি সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকা বিমানবন্দর দুটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আর্থিক ব্যয় এবং আঞ্চলিক কৌশলগত বিবেচনার কারণে প্রকল্পগুলো এগোচ্ছে না। বিশেষ করে সীমান্তঘেঁষা অঞ্চলে নতুন বিমান চলাচল অবকাঠামো চালুর ক্ষেত্রে প্রতিবেশী ভারতের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।

যদিও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিমানবন্দর, বন্দর, রেল ও প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কৌশলগত আগ্রহ ও সংবেদনশীলতা সবসময়ই বিবেচনায় থাকে। ফলে ঠাকুরগাঁও ও শমসেরনগরের মতো স্থাপনার ভবিষ্যৎ কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চীনের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। নীলফামারী অঞ্চলে স্বাস্থ্যখাতে বৃহৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনার পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কয়েক হাজার শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং মেডিকেল সেবার সম্প্রসারণে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ রয়েছে।

একই সঙ্গে সিলেট অঞ্চলেও স্বাস্থ্যসেবা খাতে চীনা অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে কোম্পানীগঞ্জসহ সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় আধুনিক হাসপাতাল, চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়নের সম্ভাব্য প্রকল্প নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের যোগাযোগ চলছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ একদিকে ভারতের ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ও অর্থনৈতিক অংশীদার, অন্যদিকে চীনের বৃহৎ বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার অন্যতম গন্তব্য। ফলে অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ এবং কৌশলগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে কেন্দ্র করে দুই আঞ্চলিক শক্তির প্রভাব ও আগ্রহের ভারসাম্য রক্ষা করা বর্তমান সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

তাদের মতে, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারলেই বাংলাদেশ ভবিষ্যতে এসব প্রকল্প থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা অর্জন করতে সক্ষম হবে। বর্তমানে তাই নজর রয়েছে—চীন ও ভারতের বিভিন্ন কৌশলগত স্বার্থের মধ্যেও সরকার কীভাবে নিজস্ব উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন করে এবং দীর্ঘদিনের অচল প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে সাবেক গভর্নরের রিসোর্ট বিতর্কে

ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ গ্রেপ্তার

বিমানবন্দরের চারপাশে অবরোধ, যাত্রী আসতে না পারায় ৩৮ ফ্লাইট বিলম্ব