TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

ড. ইউনূসকে ঘিরে ভবিষ্যৎ ভাবনাঃ রাষ্ট্রপতি পদ কি সমাধান হতে পারে

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর ভবিষ্যৎ ভূমিকা। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার সম্ভাব্য আবির্ভাব দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জরিপ ও পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ১৮ মাস মেয়াদি অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনার সময় ড. ইউনূস ও তার সরকারের প্রতি জনসমর্থন ছিল উল্লেখযোগ্য—বিশেষত ঢাকার নাগরিক সমাজ ও সামাজিক অভিজাতদের মধ্যে। তবে বাস্তবে এই মহলের বড় একটি অংশের মধ্যে তার নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় ও নীরব অসন্তোষও বিদ্যমান ছিল।

২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের আগ পর্যন্ত অভিজাত নাগরিক সমাজ ড. ইউনূসকে সম্মান করলেও তার প্রতি আন্তরিক সমর্থন ছিল সীমিত। পরবর্তী সময়ে—সঠিক হোক বা ভুল—কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও অবস্থানের কারণে সেই সম্মান আরও ক্ষয় হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।

শাসন পরিচালনার বাস্তবতায় সংস্কার, জবাবদিহি ও স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে ড. ইউনূসকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় তিনি এমন কিছু গোষ্ঠীকে অসন্তুষ্ট করেছেন, যারা শুরুতে তার নেতৃত্বে বড় প্রত্যাশা দেখেছিল।

বিশেষ করে ছাত্র ও জনতাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। অনেকের কাছে এটি—ন্যায্য হোক বা না হোক—তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে তার সরকারের সময়ে নির্বিচার আটক ও নাগরিক স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তার নৈতিক নেতৃত্বের ভাবমূর্তিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে।

তবে অভিজাত মতামত নিয়ে ড. ইউনূস খুব একটা উদ্বিগ্ন নন বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যখন তিনি চাপের মুখে ছিলেন, তখন নাগরিক সমাজের বড় অংশ তার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয়নি। এর পাশাপাশি তিনি নতুন রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক মিত্রও তৈরি করেছেন।

এই প্রেক্ষাপটে লন্ডনে তারেক রহমান-এর সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ক্ষমতায় এলে ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা উত্থাপিত হয় বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। প্রস্তাবটি সরাসরি হোক বা ইঙ্গিতে—বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।

ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো অবশ্য বলছে, তিনি রাষ্ট্রপতি হতে আগ্রহী নন এবং বরং তার আগের সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ফিরে যেতে চান। অন্যদিকে প্রস্তাবিত সাংবিধানিক পরিবর্তনে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়লে, বিএনপি নেতৃত্ব হয়তো আরও অনুগত কাউকে এই পদে চাইতে পারে—যে বিবেচনায় ড. ইউনূসকে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবা হতে পারে।

তবুও বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, ড. ইউনূস রাষ্ট্রপতি হলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় সুবিধা পেতে পারে। অভ্যন্তরীণ সমালোচনা সত্ত্বেও তার বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা অতুলনীয়। দেশমুখী একজন প্রধানমন্ত্রী এবং আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন একজন রাষ্ট্রপতির যুগল নেতৃত্ব—বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য কার্যকর সমাধান হতে পারে বলেই মত দিচ্ছেন তারা।

লেখকঃ ডেভিড বার্গম্যান

সূত্রঃ কাউন্টার পয়েন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

সাবেক ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের সেরা শহরের তালিকায় ঢাকা

জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত শুরু করতে চান আসিফ নজরুল