দীর্ঘদিনের শিডিউল বিপর্যয়, ধীরগতির যাত্রা ও ক্রসিংজনিত ভোগান্তি কাটিয়ে সিলেটের রেল যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে ডুয়েল গেজ ডাবল রেললাইন উদ্যোগ। বর্তমানে মিটারগেজ সিঙ্গেল লাইনের কারণে সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচলে ব্যাপক সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, ডাবল লাইন বাস্তবায়িত হলে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
ঐতিহাসিকভাবে সিলেটের রেল যোগাযোগের সূচনা ব্রিটিশ আমলে। মূলত চা শিল্প ও পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে ১৯১২ থেকে ১৯১৫ সালের মধ্যে চালু হয় কুলাউড়া-সিলেট রেললাইন। পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালে চালু হয় সিলেট-ছাতক রেলপথ। এতে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায়।
তবে সময়ের সঙ্গে নানা সংকটে পিছিয়ে পড়ে এ অঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। করোনা মহামারির সময় বন্ধ হয়ে যায় সিলেট-ছাতক রুটে ট্রেন চলাচল। পরে ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় রেললাইন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই রুট এখনো পুরোপুরি সচল হয়নি।
এমন বাস্তবতায় সম্প্রতি সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সচেতন নাগরিকরা। বক্তারা বলেন, ডাবল লাইন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে যাত্রার সময় কমবে, ট্রেন চলাচল বাড়বে এবং যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে।
সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার নূরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমানে ঢাকা-সিলেট রুটে যাত্রা করতে গড়ে অন্তত আট ঘণ্টা সময় লাগে। ডাবল লাইন চালু হলে যাত্রা সময় এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত কমে আসতে পারে। তিনি বলেন, “ডাবল লাইন সিলেটের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ হবে।”
টিকিট কালেক্টর রায়হান বিন ইসলাম বলেন, সিঙ্গেল লাইনে ট্রেন ক্রসিংয়ের কারণে প্রায়ই দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব হয়। ডাবল লাইন চালু হলে যাত্রীদের সময় বাঁচবে, ট্রেনের সংখ্যা বাড়বে এবং টিকিটের চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে।
বর্তমানে সিলেট-ঢাকা রুটে চারটি এবং সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে। সব মিলিয়ে মাত্র ছয়টি আন্তঃনগর ট্রেনের ওপর নির্ভর করছে সিলেটের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে লোকাল ও মেইল ট্রেন চলাচল। প্রতিদিন আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ যাত্রী যাতায়াত করছেন। এছাড়া ইঞ্জিন সংকটের কারণে তেলবাহী ট্রেন চলাচলও কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২টি ট্রেন চলাচল করতো, বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র পাঁচটিতে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডুয়েল গেজ ডাবল রেললাইন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু যাত্রীসেবাই নয়, সিলেটের বাণিজ্য, পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নতুন গতি আসবে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও শিডিউল বিপর্যয়ের হতাশা পেছনে ফেলে এখন উন্নত রেল যোগাযোগের স্বপ্ন দেখছেন সিলেটবাসী।
সূত্রঃ সময় টিভি
এম.কে

