সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাজ্জাল, ইমাম মাহদি ও ঈসা (আ.)-এর আগমন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আখেরী যামানের লক্ষণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন। তবে ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষকরা এসব বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসলামী আকিদা অনুযায়ী, দাজ্জালের আবির্ভাব, ইমাম মাহদীর আগমন এবং ঈসা (আ.)-এর অবতরণ কেয়ামতের বড় আলামত হিসেবে বিবেচিত। হাদীসের বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে, ইমাম মাহদী প্রথমে আবির্ভূত হবেন এবং মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব দেবেন। এরপর দাজ্জাল পৃথিবীতে ফিতনা সৃষ্টি করবে এবং শেষ পর্যন্ত ঈসা (আ.) তাকে পরাজিত করবেন।
ধর্মীয় সূত্রে আরও বলা হয়, দাজ্জালের আগমনের আগে কঠিন দুর্ভিক্ষ ও সংকট দেখা দিতে পারে। তার ফিতনা থেকে বাঁচতে ঈমান দৃঢ় রাখা, সৎকর্ম বৃদ্ধি করা এবং কুরআনের নির্দিষ্ট অংশ তিলাওয়াতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সূরা কাহাফ পাঠের কথা হাদীসে উল্লেখ রয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা বা অন্যান্য ভূরাজনৈতিক ঘটনাকে সরাসরি দাজ্জালের আবির্ভাবের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অনেকেই দাবি করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আখেরী যামানের পূর্বাভাস হতে পারে। আবার কেউ কেউ দজলা-ফোরাত নদী অববাহিকাকে সম্ভাব্য ঘটনার স্থান হিসেবে উল্লেখ করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্মীয় বর্ণনাগুলোকে সরাসরি সমসাময়িক রাজনৈতিক ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে। তারা বলেন, আখেরী যামানের বিষয়গুলো ঈমানের অংশ হলেও এগুলোর নির্দিষ্ট সময়, স্থান বা রাজনৈতিক ঘটনার সঙ্গে নিশ্চিতভাবে সম্পর্ক স্থাপন করা সঠিক নয়।
এ পরিস্থিতিতে আলেমরা মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—গুজব বা অপ্রমাণিত তথ্যের ওপর নির্ভর না করে কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে জ্ঞান অর্জন করতে এবং নিজের ঈমান ও আমলকে শক্তিশালী করতে।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

