বহুদিনের তিক্ততা, অভিমান ও দূরত্বের পর অবশেষে মিলনের ইঙ্গিত মিলছে ব্রিটিশ রাজপরিবারে। রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ছেলে রাজপুত্র হ্যারি এবং তার স্ত্রী মেগান আগামী মাসে যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে তাদের জন্য রাজকীয় বাসভবনে থাকার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছেন স্বয়ং রাজা, যা তারা সানন্দে গ্রহণ করেছেন।
২০২০ সালে রাজকীয় দায়িত্ব ও সুযোগ-সুবিধা ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেন এই দম্পতি। এরপর রাজপরিবারের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ, বৈষম্য ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তোলায় দুই পক্ষের সম্পর্ক চরম অবনতির দিকে যায়। একপর্যায়ে যুক্তরাজ্যে তাদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত রাজকীয় বাসভবনও ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং তাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুবিধাও প্রত্যাহার করা হয়।
তবে দীর্ঘদিনের সেই টানাপোড়েনের পর এবার পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন রাজপরিবারবিষয়ক বিশ্লেষকেরা। আগামী মাসে একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিমূলক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যুক্তরাজ্যে আসবেন রাজপুত্র হ্যারি ও তার স্ত্রী। আর এই সফরেই তারা রাজার আমন্ত্রণে রাজকীয় বাসভবনে অবস্থান করবেন।
সফরের সবচেয়ে আবেগঘন দিক হলো, এ দম্পতি তাদের দুই সন্তানকেও সঙ্গে নিয়ে আসছেন। ২০২২ সালের পর এই প্রথম রাজা চার্লস তার নাতি-নাতনিদের সামনাসামনি দেখার সুযোগ পাবেন। দীর্ঘ চার বছর পর দাদার সঙ্গে নাতি-নাতনিদের এই পুনর্মিলন রাজপরিবারের জন্য এক বিশেষ মুহূর্ত হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সফরকালে রাজপুত্র হ্যারি তার সন্তানদের নিয়ে তার প্রয়াত মা রাজকুমারী ডায়ানার সমাধিস্থলও পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে। এর আগে নিরাপত্তাজনিত কারণে তার স্ত্রী ও সন্তানদের যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত বিশেষ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ায় সেই বাধা কেটে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের পারিবারিক দূরত্ব কমিয়ে সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। রাজা চার্লসের ব্যক্তিগত উদ্যোগে রাজপুত্রের পরিবারকে রাজকীয় বাসভবনে থাকার আমন্ত্রণ দেওয়া ভবিষ্যতে রাজপরিবারের সম্পর্ক আরও স্বাভাবিক ও উষ্ণ হয়ে ওঠার সম্ভাবনাকে নতুন করে জোরালো করেছে।
সূত্রঃ সারে হ্যারিটেজ
এম.কে

