20 C
London
June 29, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

‘দেশে ফিরবই’ শেখ হাসিনার ঘোষণাঃ পুরোনো মন্তব্যে অনড় কুগেলম্যান, নতুন করে শুরু বিতর্ক

ভারতের নির্বাসিত অবস্থান থেকে চলতি বছরই বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আইনি বাধা ও তার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় উপেক্ষা করেই তিনি দেশে ফিরবেন। তার এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গন ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেন, ব্যক্তিগত কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য নয়, বরং বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তিনি দেশে ফিরতে চান। তিনি বলেন, মৃত্যু বা রাজনৈতিক প্রতিকূলতা তাকে নিবৃত্ত করতে পারবে না।

তবে শেখ হাসিনার এই ঘোষণার বিপরীতে আলোচনায় উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যানের আগের একটি মন্তব্য। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক বিশ্লেষণে তিনি বলেছিলেন, শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে আসা তিনি কল্পনাও করতে পারেন না। তার ভাষায়, যদি তিনি দেশে ফেরেন, তাহলে সম্ভবত জীবনের বাকি সময় কারাগারেই কাটাতে হবে।

মাইকেল কুগেলম্যান সে সময় বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার পর ভারত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দিতে চাইবে না। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে তাকে ভারতে রাখাও দিল্লির জন্য কূটনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। ফলে ভারত চাইতে পারে তিনি তৃতীয় কোনো দেশে চলে যান। কিন্তু উচ্চ নিরাপত্তা, রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও আইনি জটিলতার কারণে এমন একজন নেতাকে স্থায়ী আশ্রয় দিতে আগ্রহী কোনো দেশ খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, কুগেলম্যানের ওই মন্তব্যটি তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতার ভিত্তিতে করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে শেখ হাসিনা নিজেই দেশে ফেরার প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়ায় পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। যদিও তার ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে।

বর্তমানে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রয়েছে। এছাড়া তার দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমও নিষিদ্ধ। ফলে তিনি দেশে ফিরলে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন বলে আইন বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

পরিবার-ঘনিষ্ঠ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আপাতত শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন এবং সেখানেই তার নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে আলোচনা চলছে। তৃতীয় কোনো দেশে স্থায়ী আশ্রয়ের বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা থাকলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশ হয়নি।

মাইকেল কুগেলম্যান যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রখ্যাত থিংকট্যাঙ্ক উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সাবেক পরিচালক এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি ও কূটনীতি নিয়ে সুপরিচিত একজন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক। তার মূল্যায়ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারণী মহলে প্রায়ই গুরুত্বের সঙ্গে উদ্ধৃত হয়ে থাকে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার ফলে বাংলাদেশের রাজনীতি, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও তার প্রত্যাবর্তন বাস্তবে কীভাবে সম্ভব হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

হার্ভার্ডের শিক্ষার্থী বাংলাদেশে বিলিয়ন ডলারের স্টার্টআপ প্রোগ্রাম চালু করতে কাজ করছেন

শেখ হাসিনার বক্তব্য ভারতের জন্য জটিলতা তৈরি করেছেঃ শশী থারুর

‘নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে আওয়ামী লীগের হামলা’