TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ধনী দেশগুলোর মধ্যে সম্পদ হারানোর শীর্ষে যুক্তরাজ্যঃ পাঁচ বছরে ২৩ শতাংশের বেশি পতন

মহামারির পর বিশ্বের উন্নত অর্থনীতিগুলোর মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পদ হ্রাসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে যুক্তরাজ্য। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইউবিএসের সর্বশেষ বৈশ্বিক সম্পদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পর একজন সাধারণ ব্রিটিশ নাগরিকের সম্পদ ২৩ শতাংশেরও বেশি কমেছে। জরিপে অন্তর্ভুক্ত ৩৭টি দেশের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় পতন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর থেকে একজন সাধারণ ব্রিটিশ প্রাপ্তবয়স্কের প্রকৃত সম্পদের পরিমাণ গড়ে প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ পাউন্ড কমেছে। বর্তমানে একজন ব্রিটিশ প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যম সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯৫ হাজার ৫০০ পাউন্ডের কিছু বেশি। ফলে সম্পদের হিসাবে ব্রিটিশরা ফ্রান্সের নাগরিকদের তুলনায় সামান্য এগিয়ে থাকলেও ইতালি ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিকদের চেয়ে পিছিয়ে পড়েছেন।

ইউবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারির পর মূল্যস্ফীতির তীব্র ঊর্ধ্বগতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে সম্পদের প্রকৃত মূল্য দ্রুত কমে গেছে। বিশেষ করে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতির চাপ অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় বেশি ছিল।

আবাসন বাজারের গতি কমে যাওয়াও সম্পদ হ্রাসের আরেকটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও ২০২০ সালের পর থেকে যুক্তরাজ্যে বাড়ির দাম ২৬ শতাংশ বেড়েছে, একই সময়ে ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়েছে ৩২ শতাংশ। ফলে বাড়ির নামমাত্র মূল্য বাড়লেও মূল্যস্ফীতির কারণে প্রকৃত সম্পদের মূল্য কমে গেছে।

ইউবিএস গ্লোবাল ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ পল ডোনোভান বলেন, ইউরোপের তুলনায় কিছু সময় যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। বিশেষ করে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা মানুষের প্রকৃত সম্পদের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ তাদের নিজস্ব বাড়ি। তাই আবাসন বাজারে মূল্যবৃদ্ধি বা স্থবিরতা সরাসরি ব্যক্তিগত সম্পদের ওপর প্রভাব ফেলে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে যুক্তরাজ্যের পরিবারগুলো তুরস্ক, বুলগেরিয়া, মেক্সিকো এবং কাজাখস্তানের পরিবারের তুলনায়ও বেশি সম্পদ হারিয়েছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের পৃথক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার জীবনমান উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অনেক পরিবারের প্রকৃত জীবনমান তার দায়িত্ব গ্রহণের আগের তুলনায় নিম্নমুখী।

অন্যদিকে, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে থাকা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সম্প্রতি বলেছেন, যুক্তরাজ্য আর একটি স্থবির দশক পার করার সামর্থ্য রাখে না। দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্পদ কমে যাওয়ার পাশাপাশি মানুষের আয়ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি। ফলে ব্রিটিশ পরিবারগুলো একই সঙ্গে আয় ও সম্পদের ওপর দ্বিমুখী চাপের মুখে পড়েছে। একই সময়ে আয়করের সীমা দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকায় করের বোঝাও বাড়ছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউবিএসের তথ্যমতে, সম্পদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, যেখানে গড় সম্পদ ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়াতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। জি-সেভেনভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ বেড়েছে জাপানে, যেখানে মধ্যম সম্পদ ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে ইনস্টিটিউট অব ডিরেক্টরস জানিয়েছে, জুন মাসে যুক্তরাজ্যে ব্যবসায়িক আস্থা আরও কমেছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী আনা লিচ সরকারের প্রতি নিয়ন্ত্রক ব্যয় কমানো, করব্যবস্থা সহজ করা এবং দ্রুত ও ধারাবাহিক নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা সম্ভব হয়।

তবে ট্রেজারি বিভাগের এক মুখপাত্র সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, মূল্যস্ফীতি এখন স্থিতিশীল রয়েছে, বছরের শুরুতে জি-সেভেনভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল সর্বোচ্চ এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা উভয়ই যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস উন্নীত করেছে। এছাড়া গত এক বছরে প্রকৃত মজুরিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে সরকারের দাবি।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটেনেরই, পেন্টাগনের ইমেইল ফাঁসের পর কড়া বার্তা লন্ডনের

করোনা ভাইরাস নিয়ে প্রচলিত গুজব

যুক্তরাজ্যে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন অনশনকারীর কয়েক দিনের মধ্যেই মৃত্যু হতে পারে—চিকিৎসকের সতর্কতা