18.9 C
London
August 31, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

নতুন ঋণ ১৮০ মিলিয়নঃ পুরোনো ঋণ শোধে ৪৫৩ মিলিয়ন ডলার—দায় সামলাচ্ছে নতুন বিএনপি সরকার

আগের সরকারগুলোর সময়ে নেওয়া বৈদেশিক ঋণের বোঝা এখন পরিশোধ করছে বিএনপির নতুন সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাংলাদেশ নতুন বৈদেশিক ঋণ পেয়েছে ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিপরীতে পুরোনো ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার। ফলে নতুন করে যে পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ এসেছে, তার চেয়ে ২৭৩ দশমিক ০৫ মিলিয়ন ডলার বেশি অর্থ ঋণ পরিশোধে চলে গেছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাংলাদেশ যে ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার ঋণ ছাড় পেয়েছে, তার বিপরীতে পুরোনো ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ নতুন ঋণের অর্থের প্রায় আড়াই গুণ অর্থ পুরোনো দায় মেটাতে ব্যয় হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থপ্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। একদিকে নতুন প্রকল্পের জন্য অর্থছাড় কমছে, অন্যদিকে অতীতে নেওয়া বড় বড় প্রকল্পের ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের চাপ বাড়ছে। ফলে সরকারের ওপর বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ পরিশোধের দায় ক্রমেই বাড়ছে।

ইআরডির তথ্য আরও বলছে, গত অর্থবছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ২০৮ দশমিক ০৪ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পেয়েছিল। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা কমে ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জুলাই মাসে ঋণ ছাড় কমেছে ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

অন্যদিকে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ৪৪৬ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছিল। চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে সেই পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে একই মাসে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মাসের এই হিসাব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি চিত্র তুলে ধরছে। নতুন সরকারের সময়ে বৈদেশিক ঋণের অর্থ ছাড়ের তুলনায় আগের সময়ে নেওয়া ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে অনেক বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এর ফলে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থাপনা ও অর্থপ্রবাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

বিশেষ করে আগের সরকারগুলোর সময়ে নেওয়া বিভিন্ন বড় অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পের ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে আসায় এখন নিয়মিত আসল ও সুদ পরিশোধ শুরু হয়েছে। ফলে ওই ঋণগুলোর দায় বর্তমান সরকারের সময়ের বাজেট ও বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থাপনায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

এদিকে নতুন প্রকল্পে অর্থছাড় প্রত্যাশিত হারে না বাড়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নতুন ঋণের অর্থ কম আসার বিপরীতে পুরোনো ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধের পরিমাণ বাড়তে থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার নিট প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

জুলাইয়ের হিসাব থেকে দেখা যাচ্ছে, শুধু এক মাসেই নতুন বৈদেশিক ঋণ হিসেবে পাওয়া ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলারের বিপরীতে ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ ঋণ নেওয়ার চেয়ে ঋণ পরিশোধেই বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে। নতুন ঋণ ও পুরোনো ঋণ পরিশোধের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২৭৩ দশমিক ০৫ মিলিয়ন ডলার।

তবে কোন সরকারের সময়ে নেওয়া কোন ঋণের কত অংশ জুলাই মাসে পরিশোধ করা হয়েছে, ইআরডির প্রকাশিত এই তথ্য থেকে তা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা যায় না। তাই পুরো ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলারকে সরাসরি শুধু আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া ঋণ হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে নেওয়া বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তারপরও অর্থনীতিতে এর তাৎপর্য স্পষ্ট—আগের কয়েক বছরের ঋণনির্ভর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর দায় এখন পরিশোধের পর্যায়ে এসেছে। ফলে নতুন সরকারকে একই সঙ্গে পুরোনো ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা এবং নতুন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের পরবর্তী মাসগুলোতে নতুন ঋণ ছাড়ের গতি এবং পুরোনো ঋণ পরিশোধের পরিমাণই নির্ধারণ করবে বৈদেশিক অর্থপ্রবাহের ওপর চাপ কতটা বাড়ে বা কমে। জুলাইয়ের হিসাব অবশ্য এরই মধ্যে দেখিয়ে দিয়েছে—বাংলাদেশ এখন শুধু নতুন ঋণ নেওয়ার পর্যায়ে নেই; একই সঙ্গে বড় অঙ্কের পুরোনো বৈদেশিক ঋণের দায়ও নিয়মিত শোধ করতে হচ্ছে।

সূত্রঃ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) জুলাই ২০২৬-এর হালনাগাদ বৈদেশিক ঋণসংক্রান্ত তথ্য;

এম.কে

আরো পড়ুন

জ্বালানি নিয়ন্ত্রণে এবার ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার

বাংলাদেশে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে ইতা‌লি দূতাবাসের নতুন নির্দেশনা

আগরতলার বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা বন্ধ