16.3 C
London
September 28, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

নতুন নিরাপদ পথে আসা শরণার্থীদেরও ব্রিটেনে থাকতে দেওয়া হবে নাঃ নাইজেল ফারাজ

ব্রিটেনে নতুন নিরাপদ ও বৈধ পথে আসা শরণার্থীদের স্থায়ীভাবে থাকতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ। ব্রিটিশ সরকারের নতুন শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচি পুনরায় চালুর ঘোষণার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ঘোষণা করেছেন, ইউকে রিসেটেলমেন্ট স্কিম পুনরায় চালু করা হচ্ছে। এর আওতায় প্রতি বছর কয়েকশ শরণার্থী বৈধ পথে ব্রিটেনে আসার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি কমিউনিটি ও বিশ্ববিদ্যালয় স্পনসরশিপের মাধ্যমে শরণার্থীদের ব্রিটেনে পুনর্বাসনের নতুন ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় আসা শরণার্থীদের মধ্যে প্রায় চারজনের একজন আফগান নারী ও শিশু এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থী হতে পারেন। এছাড়া প্রতিবন্ধী ও ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থীদেরও অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রত্যেক আবেদনকারীকে নিরাপত্তা ও অপরাধসংক্রান্ত কঠোর যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

তবে রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ সরকারের এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, লেবার সরকার ‘আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা’র আড়ালে আরও বিপুলসংখ্যক মানুষকে ব্রিটেনে আনার চেষ্টা করছে।

ফারাজ বলেন, “ব্রিটেন আরও অভিবাসী গ্রহণ করতে বাধ্য নয়। রিফর্ম সরকার ক্ষমতায় এলে এসব মানুষকে এখানে থাকতে দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, লেবার সরকার যদি সত্যিই মনে করে যে জনগণ তাদের ‘উন্মুক্ত সীমান্ত নীতি’ সমর্থন করে, তাহলে তাদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের কাছ থেকে সেই নীতির জন্য ম্যান্ডেট নেওয়া উচিত।

ফারাজের ভাষায়, নির্বাচনী ম্যান্ডেট ছাড়া অ্যান্ডি বার্নহামের সরকার এবং তার অভিবাসন নীতির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন নিরাপদ ও বৈধ রুটের সংখ্যা শুরুতে সীমিত রাখা হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী তা বাড়ানো হতে পারে। সরকার জানিয়েছে, মোট কতজন শরণার্থীকে নেওয়া হবে তা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখা হবে এবং সংখ্যার ওপর হোম অফিসের নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

নতুন ব্যবস্থায় কমিউনিটি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শরণার্থীদের স্পনসর করতে পারবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই রুটগুলোতে আগতদের সংখ্যা প্রথম দিকে কম থাকবে এবং ব্রিটেনের শরণার্থী গ্রহণ ও সহায়তার সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তা পরিচালনা করা হবে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুনরায় চালু হওয়া রিসেটেলমেন্ট স্কিমে প্রথম দিকে সংখ্যা কয়েকশ থাকবে এবং পরবর্তীতে তা কয়েক হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকবে।

সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি শরণার্থী সংগঠনগুলোর মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। রিফিউজ কাউন্সিল বলেছে, নিরাপদ ও বৈধ পথ কার্যকর করতে হলে পর্যাপ্ত সংখ্যক মানুষের জন্য সুযোগ তৈরি করতে হবে; শুধু কয়েকশ মানুষকে সুযোগ দিলে এর প্রভাব সীমিত থাকতে পারে।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

লন্ডনের রাস্তায় সাধারণ জীবনে তারেক রহমান, রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড়

নিউজ ডেস্ক

ই-সিগারেট বন্ধ হতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যে

যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসী কর্মসংস্থানে নিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ