21 C
London
July 21, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক, বিদ্যুৎ বিলের ভ্যাট বিতর্কে নীরব মন্ত্রীরা

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব গ্রহণের পর তার নেতৃত্বে প্রথম আনুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে আয়োজিত এই বৈঠকে সরকারের নতুন নীতিগত অগ্রাধিকার, মন্ত্রিসভার দায়িত্ব বণ্টন এবং আসন্ন অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।

দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হওয়া বৈঠকে যোগ দিতে একে একে ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছান মন্ত্রিসভার সদস্যরা। প্রথম দিকে উপস্থিত হন লুসি পাওয়েল ও মিয়াটা ফাহনবুলেহ। পরে একসঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এবং ক্রিস ব্রায়ান্ট। নির্ধারিত সময়ের কিছু আগে উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনারও বৈঠকে অংশ নিতে পৌঁছান।

এ সময় সাংবাদিকরা সম্প্রতি ঘোষিত গৃহস্থালি বিদ্যুৎ বিল থেকে ভ্যাট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করলেও মন্ত্রীরা কোনো মন্তব্য করেননি। বিশেষ করে এই নীতির বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান তারা।

পরে চিফ হুইপ অ্যানেলিস মিডগলি, নতুন পরিবেশমন্ত্রী ডেম অ্যাঞ্জেলা ঈগল, ব্যবসা ও বাণিজ্যমন্ত্রী জনাথন রেনল্ডস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক মন্ত্রী কানিশকা নারায়ণ এবং বিচারমন্ত্রী অ্যালেক্স নরিসও বৈঠকে যোগ দেন।

নতুন অর্থমন্ত্রী জন হিলিও বৈঠকে অংশ নিতে ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছান। তবে বিদ্যুৎ বিলের ভ্যাট প্রত্যাহারের ব্যয় কীভাবে বহন করা হবে—এ প্রশ্নের জবাব না দিয়েই তিনি বৈঠকে প্রবেশ করেন। অর্থায়নের বিষয়টি ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সরকারের দাবি, বাতিল হওয়া ডিজিটাল আইডি কর্মসূচি থেকে সাশ্রয় হওয়া অর্থ দিয়েই এই ব্যয় মেটানো হবে। তবে বিরোধী রাজনীতিক এবং অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ এই ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এদিকে সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় রদবদলের অংশ হিসেবে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সমতাবিষয়ক মন্ত্রী করা ব্রিজেট ফিলিপসনও বৈঠকে অংশ নেন। সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও ক্রীড়ামন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি বৈঠক শুরুর ঠিক আগে ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছান এবং হাসিমুখে ১০ নম্বর ভবনে প্রবেশ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অ্যান্ডি বার্নহ্যামের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক তার সরকারের নীতিগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয়, করনীতি, অভিবাসন, সরকারি ব্যয় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে এই বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলোর দিকে এখন নজর রয়েছে রাজনীতি ও অর্থনীতির পর্যবেক্ষকদের।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্য-রাশিয়া যুদ্ধের শঙ্কা, হুমকি ঠেকাতে যুক্তরাজ্যে পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন

যে কারণে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সম্মাননা পেলেন করণ জোহর

২০২৩ সালের জন্যে লন্ডন বিশ্বের সেরা শহর মনোনীত