জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ‘নতুন হাওয়া ভবনের ম্যানেজার’ হিসেবে অভিহিত করে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সারজিস আলমের দাবি, মীর শাহে আলমের মাধ্যমে দলীয় পর্যায়ে ‘মেগা লুটপাট, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির’ ভাগ-বাটোয়ারা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মীর শাহে আলমের ছেলে ও পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের নামে প্রতিষ্ঠান তৈরি করে সরকারি টেন্ডারে অনিয়মের একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে সারজিস আলম বিএনপির দীর্ঘদিনের নেতাদের একটি অংশের অসন্তোষের কথাও উল্লেখ করেন। তার দাবি, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা দলটির কিছু সিনিয়র নেতা মীর শাহে আলমের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ এবং সময়ের সঙ্গে সেই অসন্তোষ বাড়ছে।
পোস্টের শেষাংশে সারজিস আলম ভবিষ্যতে বিএনপি সরকারে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে মীর শাহে আলমকে তার জন্য দায়ী করার মতো মন্তব্য করেন। তবে তিনি এসব অভিযোগের সমর্থনে কোনো সরকারি নথি, আর্থিক তথ্য, টেন্ডারসংক্রান্ত কাগজপত্র বা অন্য কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেননি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
মীর শাহে আলম বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এবং বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। সরকারি ওয়েবসাইটেও তাকে এই পদে দায়িত্ব পালনরত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে সারজিস আলমের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে মীর শাহে আলমের বক্তব্য বা সংশ্লিষ্ট নথি সামনে না আসা পর্যন্ত এগুলোকে সারজিস আলমের রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
এর আগে চলতি বছরের আগস্টে মীর শাহে আলমকে রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে ইত্তেফাকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়। এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তার বক্তব্যও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
সারজিস আলমের এই বক্তব্যের পর মীর শাহে আলমকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, তদন্তের ফলাফল কিংবা অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য প্রয়োজন হবে।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এমকে

