TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

নিয়ন্ত্রণ না হলে এআই হয়ে উঠবে চাকরির ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’— মেয়র সাদিক খান

যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চাকরির জন্য “গণবিধ্বংসী অস্ত্র” হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খান। ম্যাসন হাউসে দেওয়া তার বার্ষিক ভাষণে তিনি বলেন, এআইয়ের ইতিবাচক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে না পারলে বিশ্ব একটি নতুন গণবেকারত্বের যুগে প্রবেশ করতে পারে।
লন্ডনের শ্রমবাজার এআই পরিবর্তনের সবচেয়ে তীব্র প্রান্তে অবস্থান করছে বলে মন্তব্য করেন মেয়র। তার ভাষায়, অর্থনীতি, পেশাদার সেবা এবং সৃজনশীল শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এআইয়ের প্রভাব হবে “অত্যন্ত বিশাল”, যা চাকরির কাঠামোকে দ্রুত বদলে দিতে পারে।

সাদিক খান বলেন, এআই জনসেবা উন্নত করতে পারে এবং ক্যানসার চিকিৎসা বা জলবায়ু সংকটের মতো জটিল সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তবে দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহারে এটি ব্যাপক বেকারত্ব, দ্রুত বাড়তে থাকা বৈষম্য এবং সম্পদ ও ক্ষমতার অস্বাভাবিক কেন্দ্রীকরণ সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, মানুষ যেন অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন এক ভবিষ্যতের দিকে না এগোয়, যা তারা চায় না। এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়—এআইকে ইতিবাচক রূপান্তর ও সৃষ্টির শক্তিতে পরিণত করা হবে, নাকি নিষ্ক্রিয় থেকে দেখা হবে এটি কীভাবে লাখো চাকরি ধ্বংস করে।

সিটি হলের নভেম্বরের এক জরিপে দেখা গেছে, লন্ডনের ৫৬ শতাংশ কর্মজীবী মানুষ মনে করেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই এআই তাদের চাকরিতে প্রভাব ফেলবে। মেয়রের আশঙ্কা, সরকারি হস্তক্ষেপ না হলে নতুন চাকরি তৈরির চেয়ে পুরোনো চাকরি হারানোর গতি বেশি হবে।

বিশেষ করে এন্ট্রি-লেভেল বা প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে বলে মন্তব্য করেন সাদিক খান। এতে তরুণরা কর্মজীবনের প্রথম ধাপেই সুযোগ হারাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে পুরো শ্রমবাজারের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এই প্রেক্ষাপটে সরকার, দক্ষতা খাত ও এআই শিল্পের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দেন তিনি। এই দল ভবিষ্যতে লন্ডনবাসীকে কীভাবে সহায়তা করা যায় তা পর্যালোচনা করবে। তাদের প্রতিবেদন আগামী গ্রীষ্মে প্রকাশের কথা রয়েছে। পাশাপাশি লন্ডনের সব নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে এআই প্রশিক্ষণ চালুর ঘোষণাও দেন মেয়র।

সাদিক খান বলেন, গবেষণা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে একটি চাকরির প্রয়োজনীয় দক্ষতার প্রায় ৭০ শতাংশ বদলে যাবে। তাই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এখন নৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।

এদিকে ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাজ্যের মোট কর্মশক্তির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ—৭৫ লাখ কর্মীকে এআই-সংক্রান্ত দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এপ্রিল থেকে এআই ও ডিজিটাল দক্ষতা নিয়ে নতুন স্বল্পমেয়াদি কোর্স চালুর ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন এআই ব্যবহার করে নারী ও শিশুদের যৌনায়িত ডিপফেক ছবি তৈরির ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স ঘোষণা দিয়েছে, তারা গ্রোক এআই চ্যাটবট দিয়ে বাস্তব মানুষের উসকানিমূলক ছবি তৈরি ও সম্পাদনা সীমিত করবে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

প্রতিদিন হোম অফিসের তত্ত্বাবধানে আশ্রয়প্রার্থীদের উপর ১০টি হামলা হয়ঃ রিপোর্ট

যুক্তরাজ্যে অক্সফোর্ড মসজিদের দরজায় শূকরের মাংস ও পতাকা

যুক্তরাজ্য ভ্রমণের আগে করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক