নাশিত রহমান || ১২ জুলাই ২০২৬ || লন্ডন
২৩ জুন ২০১৬—এই তারিখটি যুক্তরাজ্যের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গভীর বিভাজনরেখা। ব্রেক্সিট গণভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু একটি রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক ঘটনা ছিল না; এটি ছিল এক যুগান্তকারী মোড়, যার অভিঘাত আজও যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্প, বাণিজ্য, ব্যাংকিং, মর্টগেজ বাজার এবং আন্তর্জাতিক অবস্থানে প্রতিনিয়ত প্রতিফলিত হচ্ছে।
এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এই সময়ে ব্রেক্সিট ব্রিটিশ রাজনীতির সবচেয়ে বিতর্কিত, বিভাজনমূলক এবং আবেগপ্রবণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে—একদিকে তীব্র সমর্থন, অন্যদিকে তীব্র বিরোধিতা। ব্রেক্সিটকে ঘিরে রাজনৈতিক নেতৃত্বের উত্থান পতনও ছিল নাটকীয়; কেউ ক্ষমতার শীর্ষে উঠেছেন, কেউ রাজনৈতিকভাবে বিলুপ্ত হয়ে গেছেন। ব্রেক্সিট যেন এক রাজনৈতিক পরীক্ষাগার, যেখানে নেতৃত্বের সক্ষমতা, কৌশল, জনমত এবং রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি দিকনির্দেশনা একসঙ্গে পরীক্ষা হয়েছে।
রাজনৈতিক ভূদৃশ্যের রূপান্তর
ব্রেক্সিট গণভোটের পর যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে যে পরিবর্তন এসেছে, তা ছিল বহুমাত্রিক। কনজারভেটিভ পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভাজন, নেতৃত্বের দ্রুত পরিবর্তন, লেবার পার্টির নীতি সংকট, স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা প্রশ্ন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রোটোকল সংকট—সব মিলিয়ে ব্রিটিশ রাজনীতি এক অস্থির দশক অতিক্রম করেছে।
ব্রেক্সিটের ফলে অনেক রাজনৈতিক নেতা উত্থান ঘটিয়েছেন—কেউ ইউরোপবিরোধী অবস্থানকে পুঁজি করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন; আবার কেউ ব্রেক্সিটের ব্যর্থতা বা জটিলতা সামলাতে না পেরে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ব্রেক্সিট যেন এক রাজনৈতিক ফিল্টার, যা নেতৃত্বের শক্তি ও দুর্বলতাকে স্পষ্ট করে দিয়েছে।
অর্থনীতি: অনিশ্চয়তা, সংকোচন ও পুনর্গঠনের চাপ
ব্রেক্সিটের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়েছে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে। ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশাধিকার সীমিত হওয়া, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা বৃদ্ধি, আমদানি রপ্তানি খরচ বেড়ে যাওয়া, শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি—সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে চাপের মুখে পড়েছে। ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্স সেক্টর বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লন্ডনের আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে অবস্থান দুর্বল হয়েছে; অনেক প্রতিষ্ঠান ইউরোপের শহরগুলোতে কার্যক্রম স্থানান্তর করেছে। মর্টগেজ বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে, সুদের হার ওঠানামা করেছে, এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে।
শিক্ষা, গবেষণা ও বিশ্ববিদ্যালয় খাত
ব্রেক্সিটের ফলে যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা খাতও বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ইউরোপীয় গবেষণা তহবিলের প্রবেশাধিকার কমে গেছে, আন্তর্জাতিক ছাত্রদের জন্য ভিসা ও ফি কাঠামো কঠোর হয়েছে, এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক স্থিতি দুর্বল হয়েছে। গবেষণা সহযোগিতা কমেছে, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে। শিক্ষা খাতের এই সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়; এটি যুক্তরাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শিল্প, বাণিজ্য ও সেবা খাত
ব্রেক্সিটের পর শিল্পখাতে সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে। উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, রপ্তানি জটিল হয়েছে, এবং ছোট মাঝারি ব্যবসা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেবা খাত—বিশেষ করে হসপিটালিটি, রেস্টুরেন্ট, কেয়ার সেক্টর—দক্ষ কর্মীর অভাবে সংকটে পড়েছে। বাণিজ্য চুক্তি পুনর্গঠন করতে গিয়ে যুক্তরাজ্যকে নতুন করে বৈশ্বিক অবস্থান নির্ধারণ করতে হয়েছে। কিন্তু ইউরোপীয় বাজারের বিকল্প খুঁজে পাওয়া সহজ ছিল না।
স্বাস্থ্য ও জনসেবা
NHS এ ইউরোপীয় কর্মীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয়েছে। জনসেবার ওপর চাপ বেড়েছে, এবং দক্ষ কর্মী নিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হয়েছে।
ব্রেক্সিট: ভালোবাসা ঘৃণার দ্বৈত বাস্তবতা
ব্রেক্সিটকে ঘিরে ব্রিটিশ সমাজে যে বিভাজন তৈরি হয়েছে, তা আজও স্পষ্ট। একদল মনে করে ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্যের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছে; অন্যদল মনে করে এটি দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে দুর্বল করেছে। এই দ্বৈত বাস্তবতা ব্রিটিশ রাজনীতিকে আরও জটিল করেছে।
এক দশক পর মূল্যায়ন – ব্রিটেনের প্রযুক্তি ও আর্থিক খাত
এক দশক পর ব্রেক্সিটের বাস্তবতা হলো—এটি যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোকে গভীরভাবে পরিবর্তন করেছে। ব্রেক্সিট কোনো একক ঘটনা নয়; এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার প্রভাব আগামী বহু বছর ধরে অনুভূত হবে। যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। ব্রেক্সিটের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে—রাষ্ট্রের দিকনির্দেশনা কী হবে, অর্থনীতি কীভাবে পুনরুদ্ধার হবে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কীভাবে পুনর্গঠিত হবে, এবং ব্রিটিশ সমাজ কীভাবে এই বিভাজন অতিক্রম করবে।
ব্রেক্সিটের দশ বছর পর যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও রাজনীতির ভেতরে যে পরিবর্তনগুলো ধীরে ধীরে জমে উঠছিল, এখন সেগুলো স্পষ্ট আকার নিচ্ছে। যে প্রযুক্তি, এআই এবং আর্থিক খাত একসময় ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে সবচেয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছিল, আজ তারাই আবার ইউরোপীয় নিয়মকানুনে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে সবচেয়ে সতর্ক। এই অবস্থান পরিবর্তন কোনো মতাদর্শগত রূপান্তর নয়; বরং এটি নিয়ন্ত্রণ‑ক্লান্তির প্রতিফলন, যা ব্রিটেন‑ইউরোপ সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে এবং আগামী দশকের রাজনৈতিক‑অর্থনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে।
২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তি খাত ছিল ইইউ‑সমর্থনের প্রতীক। স্টার্টআপ, এআই গবেষক, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল—সবাই বলেছিল, ইউরোপীয় বাজার, প্রতিভা ও বিনিয়োগ ছাড়া ব্রিটেনের ডিজিটাল অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেই সময়ের যুক্তি ছিল স্পষ্ট: ইউরোপের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা মানে ছিল স্থিতিশীলতা, প্রবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা। একইভাবে সিটি অব লন্ডনের আর্থিক খাতও সতর্ক করেছিল—ইইউ পাসপোর্টিং হারালে লন্ডনের বৈশ্বিক অবস্থান দুর্বল হবে। ব্রেক্সিটের আগে সিটি ছিল ইইউ‑তে থাকার সবচেয়ে শক্তিশালী সমর্থক, কারণ তাদের ব্যবসার মূল ভিত্তিই ছিল ইউরোপীয় বাজারে অবাধ প্রবেশাধিকার।
কিন্তু ব্রেক্সিট‑পরবর্তী বাস্তবতা এই খাতগুলোর হিসাব বদলে দিয়েছে। প্রযুক্তি ও আর্থিক খাত এখন আর ইউরোপবিরোধী নয়, কিন্তু তারা ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রণের কাঠামোতে ফিরে যেতে অনাগ্রহী। তাদের মতে, ব্রাসেলসের নিয়মকানুন এখন এতটাই ভারী, নির্দেশনামূলক এবং হস্তক্ষেপমূলক হয়ে উঠেছে যে তা উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতার গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। জিডিপিআর থেকে শুরু করে ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট এবং সর্বশেষ এআই অ্যাক্ট—ইইউ‑এর আইনগুলো বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর হিসেবে পরিচিত। সমর্থকেরা বলেন, এসব আইন ভোক্তা সুরক্ষা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করে। কিন্তু প্রযুক্তি খাতের অনেকেই মনে করে, এই কাঠামোতে ফিরে গেলে উদ্ভাবনের গতি কমে যাবে, স্টার্টআপদের ব্যয় বাড়বে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় যুক্তরাজ্য পিছিয়ে পড়বে। তাদের যুক্তি হলো, প্রযুক্তি বদলায় দিনে দিনে, কিন্তু ইইউ‑এর আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল। ফলে দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি খাতের কাছে এই কাঠামোতে ফিরে যাওয়া এখন আর বাস্তবসম্মত নয়।
সিটি অব লন্ডনের অবস্থানও একইভাবে বদলেছে। ব্রেক্সিটের আগে সিটি ছিল ইইউ‑তে থাকার সবচেয়ে শক্তিশালী সমর্থক। কিন্তু ব্রেক্সিটের পর তারা দেখেছে—নিয়ন্ত্রক স্বাধীনতা লন্ডনকে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। ইইউ‑এর আর্থিক নিয়মকানুন আরও কঠোর হয়েছে, আর যুক্তরাজ্য এখন নিজের মতো করে নিয়ম তৈরি করতে পারে। ফলে সিটির অবস্থান এখন স্পষ্ট: ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চাই, কিন্তু ইউরোপের নিয়ন্ত্রণ নয়। তাদের মতে, ব্রেক্সিটের ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু সেই ক্ষতির কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে নিয়ন্ত্রক স্বাধীনতার মাধ্যমে। এই স্বাধীনতা লন্ডনকে নিউইয়র্ক, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ের মতো বৈশ্বিক আর্থিক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নতুনভাবে অবস্থান নিতে সাহায্য করেছে।
এই পরিবর্তনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্যও রয়েছে। যেখানে প্রযুক্তি ও আর্থিক খাত নিয়ন্ত্রণের কারণে ইইউ‑এর সঙ্গে পুনরায় সামঞ্জস্যে ফিরতে অনাগ্রহী, সেখানে ব্রিটিশ জনমত ক্রমশ ইইউ‑সমর্থী হয়ে উঠছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা যায়, এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্রিটিশ মনে করে ব্রেক্সিট ছিল ভুল। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইইউ‑সমর্থন আরও বেশি। অর্থাৎ, খাতভিত্তিক বাস্তবতা ও জনমতের মধ্যে একটি স্পষ্ট ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এই ব্যবধান আগামী বছরগুলোতে ব্রিটেনের রাজনীতিতে নতুন ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে—একদিকে ব্যবসায়িক খাতের বাস্তববাদী অবস্থান, অন্যদিকে জনগণের ক্রমবর্ধমান ইউরোপ‑সমর্থন।
ইইউ‑এর নিয়ন্ত্রণ সত্যিই অতিরিক্ত কি না—এটি একটি বিতর্কিত প্রশ্ন। সমালোচকেরা বলেন, ইইউ‑এর নিয়ন্ত্রণ এতটাই ভারী যে তা উদ্ভাবনকে বাধাগ্রস্ত করছে। সমর্থকেরা বলেন, এই নিয়ন্ত্রণই ইউরোপকে নিরাপদ, ন্যায্য ও ভোক্তা‑বান্ধব রাখে। বাস্তবতা হলো, ইইউ নিজেও এখন নিয়ন্ত্রণ‑ভার কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে সমস্যাটি কেবল ব্রিটেনের দৃষ্টিভঙ্গি নয়—বরং ইউরোপীয় অর্থনীতির ভেতরেও একটি স্বীকৃত চ্যালেঞ্জ। ইউরোপের ভেতরেও অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মনে করে, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ তাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিচ্ছে।
ব্রেক্সিটের এক দশক পর যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তি ও আর্থিক খাতের অবস্থান বদলেছে—ইউরোপবিরোধী হওয়ার কারণে নয়, বরং ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রণের ভারে ক্লান্ত হয়ে। তারা ইউরোপের বাজার, প্রতিভা ও বিনিয়োগ চায়, কিন্তু চায় না ইউরোপের কঠোর নিয়ন্ত্রণ, ধীর আইন প্রণয়ন এবং উদ্ভাবন‑বাধাগ্রস্ত কাঠামো। অন্যদিকে, সাধারণ জনগণ ক্রমশ ইইউ‑সমর্থী হয়ে উঠছে। এই দ্বৈত বাস্তবতা আগামী বছরগুলোতে ব্রিটেন‑ইউরোপ সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে।
ব্রেক্সিটের পরের দশক তাই আমাদের একটি শিক্ষা দেয়—রাজনীতি বদলায়, জনমত বদলায়, কিন্তু নিয়ন্ত্রণের ভারই শেষ পর্যন্ত অর্থনীতির পথ নির্ধারণ করে। যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ ইউরোপ‑সম্পর্ক এখন আর কেবল পরিচয় বা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি হয়ে উঠেছে প্রতিযোগিতা, উদ্ভাবন এবং নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্যের প্রশ্ন। আগামী দশকে এই ভারসাম্যই নির্ধারণ করবে ব্রিটেন কোন পথে এগোবে।

