TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

পর্তুগালে বাড়ছে বাংলাদেশিদের কাজের সুযোগ

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে কর্মসংস্থানের গন্তব্য হিসেবে ইউরোপের দেশ পর্তুগালের গুরুত্ব বাড়ছে। দেশটিতে শ্রমিক সংকট বাড়তে থাকায় বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যার ফলে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা উন্মুক্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটিতে বর্তমানে নির্মাণশিল্প, কৃষি, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, পরিবহন এবং কারখানা খাতে সবচেয়ে বেশি কর্মীর চাহিদা রয়েছে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাতেও বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কর্মী সংকট, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সরকারের সহায়ক নীতির সমন্বয়ে পর্তুগাল এখন বিদেশি কর্মীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে প্রয়োজন সঠিক দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান এবং বৈধ প্রক্রিয়ায় অভিবাসনের প্রস্তুতি।

দেশটিতে দুটি পদ্ধতিতে বাংলাদেশি প্রবাসী শিক্ষার্থীরা বিশ্বের নামকরা কোম্পানিগুলোতে কাজের জন্য আবেদন করতে পারেন। প্রথমত, বাংলাদেশের সনদকে ইকুইভ্যালেন্সের মাধ্যমে পর্তুগিজ সমমান সনদ নিয়ে কাজের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। আবেদনকারী শিক্ষার্থীর অবশ্যই রেসিডেন্স পারমিট থাকতে হবে। কারণ, ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো যখন চাকরির ইন্টারভিউর জন্য ডাকে, বেশির ভাগ কোম্পানিই পর্তুগালে কাজের অনুমতি আছে কি না, তা যাচাই করে।

ইকুইভ্যালেন্স হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে Decreto-Lei nr. 238/83 আইন অনুযায়ী একজন পর্তুগিজ কিংবা বিদেশি নাগরিক দেশটিতে বৈধভাবে বসবাসরত সমমান পর্তুগিজ ডিগ্রির জন্য আবেদন করতে পারবেন। মূলত বিদেশিরা ডক্টরেট, মাস্টার্স কিংবা ব্যাচেলরসহ আরও বেশ কিছু নির্দিষ্ট সমমান ডিগ্রির স্বীকৃতির জন্য অনলাইনে ইউনিভার্সিটি লিসবনের [www.ulisboa.pt](http://www.ulisboa.pt) এই লিংকে আবেদনের মাধ্যমে সেবাটি নিতে পারেন।

সমমান ডিগ্রির স্বীকৃতির জন্য প্রথমেই বাংলাদেশি নাগরিককে এ দেশের যেকোনো উকিলের মাধ্যমে সার্টিফিকেট পর্তুগিজ ভাষায় ট্রান্সলেট এবং নোটারি করতে হবে। পরবর্তী সময়ে দেশটিতে অবস্থিত নিজ দেশের দূতাবাস কর্তৃক আসল সনদ কি না, তা যাচাই করে ফরেন মিনিস্ট্রি থেকে সত্যায়িত করতে হবে। অনলাইনে আবেদন করার আগে ডক্টরেট ডিগ্রির জন্য ৬০০, মাস্টার্সের জন্য ৫৫০ ও ব্যাচেলরের জন্য ৫০০ ইউরো (অফেরতযোগ্য) ফি পরিশোধ করে আবেদন করতে হবে।

পর্তুগালের কোনো নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠান থেকে অফার লেটার পেলে তবেই কাজের ভিসা প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানই সাধারণত কর্মীর জন্য ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করে থাকে।

ভিসা আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে- বৈধ পাসপোর্ট, চাকরির চুক্তিপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এবং জীবনবৃত্তান্ত। কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও থাকার ব্যবস্থার প্রমাণও জমা দিতে হয়। দক্ষতা ও ভাষাগত যোগ্যতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক ক্ষেত্রে ইংরেজিতে প্রাথমিক যোগাযোগ দক্ষতা থাকলেই চললেও পর্তুগিজ ভাষা জানলে চাকরি পাওয়া এবং কাজের পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়।

বেতন কাঠামোর দিক থেকে দেখা যায়, সাধারণ কাজের ক্ষেত্রে মাসিক আয় ৯২০ থেকে ১০০০ ইউরোর মধ্যে হয়ে থাকে। অন্যদিকে দক্ষ কর্মীদের জন্য এই আয় ১২০০ থেকে ৩০০০ ইউরো বা তারও বেশি হতে পারে।

তবে এ ক্ষেত্রে প্রতারণার ঝুঁকিও রয়েছে। ভুয়া দালাল বা অবৈধ এজেন্সির মাধ্যমে চাকরির প্রলোভনে পড়ে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই চাকরিপ্রত্যাশীদের সরাসরি কোম্পানির ওয়েবসাইট বা নির্ভরযোগ্য জব পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাম্প্রতিক সময়ে পর্তুগালের ভিসা নীতিতেও কিছু পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে ‘জব সিকার’ ভিসা এখন সীমিত করা হয়েছে এবং আগে থেকেই চাকরি নিশ্চিত করে আবেদন করার প্রবণতা বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে পর্তুগাল বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আফজাল উদ্দিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ইউনিভার্সিটি অব নোভায় মাস্টার্সের জন্য পর্তুগালে আসেন। তিনি বলেন, আমার শুরুটা অনেক কঠিন ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে সবকিছু স্বাভাবিক হতে থাকে। আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা পাই। লিংকডইন প্রোফাইলটা গুছানোর পর চাকরি খুঁজতে শুরু করি। অনেকগুলো কোম্পানিতে সাক্ষাৎকার দিই, প্রত্যাখ্যাতও হই, তবে আশা ছাড়িনি। বর্তমানে আমি পড়ালেখার পাশাপাশি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করছি।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

পোল্যান্ড সহ বিভিন্ন দেশে শ্রমের নতুন বাজারের সন্ধানে বাংলাদেশ সরকার

নিষেধাজ্ঞায় পড়লে বাংলাদেশ থেকে পোশাক না কেনার শর্ত ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের

বাংলাদেশের ভূ-রাজনীতি বদলে গেলে প্রভাব পড়বে সিলিগুড়িতে: ভারত তৈরি করছে তিন সামরিক ঘাঁটি