15.7 C
London
May 21, 2026
TV3 BANGLA
প্রবাসে বাংলাদেশযুক্তরাজ্য (UK)

পূর্ব লন্ডনের রেডব্রিজ কাউন্সিলে ডেপুটি মেয়র হলেন সাঈদা চৌধুরী

রেডব্রিজ কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব সাঈদা চৌধুরী। পূর্ব লন্ডনের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানীয় প্রশাসনে তার নির্বাচিত হওয়াকে ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে দক্ষিণ এশীয় ও বিশেষ করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিনিধিদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় এই নির্বাচন নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

রেডব্রিজ কাউন্সিল লন্ডনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, যেখানে বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক জনগোষ্ঠীর বসবাস। ইলফোর্ড, ওয়ানস্টেড, উডফোর্ড ও বার্কিংসাইডসহ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বরোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, ভারতীয়, আফ্রিকান ও পূর্ব ইউরোপীয় কমিউনিটির মানুষ বসবাস করেন। স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, সামাজিক সেবা, শিক্ষা, আবাসন, পরিবেশ ও কমিউনিটি উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায় কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাঈদা চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটি উন্নয়ন, নারী নেতৃত্ব, সামাজিক সম্প্রীতি এবং অভিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কাজ করছেন।

বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে তিনি স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও পরিচিত মুখ হিসেবে বিবেচিত। স্থানীয় রাজনীতিতে তার সক্রিয় ভূমিকা এবং কমিউনিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তাকে এই পদে নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটিশ রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিনিধিদের উপস্থিতি গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

পার্লামেন্ট, কাউন্সিল, মেয়রাল প্রশাসন ও বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখন ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহ্যাম, রেডব্রিজ ও বার্কিং অ্যান্ড ডেগেনহ্যাম এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে।

লন্ডন-এ স্থানীয় কাউন্সিল ব্যবস্থায় মেয়র ও ডেপুটি মেয়রের পদ মূলত আনুষ্ঠানিক ও নাগরিক প্রতিনিধিত্বমূলক দায়িত্ব পালন করে। কাউন্সিলের সভা পরিচালনা, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করা, স্থানীয় দাতব্য কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং কমিউনিটি সংযোগ জোরদার করাই এসব পদের প্রধান দায়িত্ব। তবে এই পদ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।

রেডব্রিজ কাউন্সিলে বর্তমানে লেবার পার্টির শক্তিশালী প্রাধান্য রয়েছে। কাউন্সিলের মোট ৬৩টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে দক্ষিণ এশীয় ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক রাজনৈতিক সক্রিয়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন।

কমিউনিটি নেতারা বলছেন, সাঈদা চৌধুরীর ডেপুটি মেয়র হওয়া তরুণ প্রজন্মের বাংলাদেশি-বংশোদ্ভূত নারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করবে। বিশেষ করে স্থানীয় প্রশাসন, জনসেবা ও রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এটি উৎসাহ জোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অনেকে এটিকে “বাংলাদেশি কমিউনিটির সম্মানজনক অর্জন” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কমিউনিটির আশা, তিনি বহুসাংস্কৃতিক সম্প্রীতি, শিক্ষা, যুব উন্নয়ন এবং অভিবাসী পরিবারের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির নতুন প্রজন্ম এখন শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য বা রেস্টুরেন্ট খাতেই নয়, বরং রাজনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, আইন ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। রেডব্রিজ কাউন্সিলে সাঈদা চৌধুরীর ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়া সেই পরিবর্তনেরই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবের সিদ্ধান্তে কারণে হতাশ এক বাবা

ভারতীয়দের জন্য অভিবাসন সহজের পরিকল্পনা ব্রিটিশ মন্ত্রীদের

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে আবারও বেড়েছে পাইকারি গ্যাসের দাম