23.3 C
London
July 4, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

পেনাল্টির আগে রোনালদোর ‘বিসমিল্লাহ’ বলে ফিসফিসে বাক্য ঘিরে বিশ্বজুড়ে তুমুল বিতর্ক

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে পর্তুগালকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলার নায়ক হন অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে নির্ধারক পেনাল্টি নেওয়ার ঠিক আগে তার ঠোঁট নাড়িয়ে ফিসফিস করে বলা কয়েকটি শব্দ। টেলিভিশনের ক্লোজ-আপ ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই মুহূর্ত এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বব্যাপী বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারানোর আগে নির্ধারক পেনাল্টি নিতে যান রোনালদো। ঠিক সেই সময় ক্যামেরায় ধরা পড়ে তিনি নিজের সঙ্গে কিছু বলছেন। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় জোর বিতর্ক—তিনি কি “বিসমিল্লাহ” বলেছিলেন, নাকি পর্তুগিজ ভাষায় নিজেকেই সাহস জোগাচ্ছিলেন?

আরবি ভাষাভাষী বিশ্বের অসংখ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, রোনালদো দু’বার “বিসমিল্লাহ” উচ্চারণ করেছিলেন। মুসলিম বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজ শুরুর আগে আল্লাহর সাহায্য, বরকত ও সফলতা কামনা করে “বিসমিল্লাহ” বলার প্রচলন রয়েছে। ফলে এই দাবি দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায়।

২০২২ সালে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রোনালদো আরব বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়া ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। তাই অনেকেই মনে করছেন, সৌদি আরবে দীর্ঘদিন বসবাস ও খেলার অভিজ্ঞতার কারণে তিনি এই অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, পেনাল্টির আগে রোনালদোর ঠোঁটের নড়াচড়া দেখে অনেক দর্শক মুহূর্তের জন্য থমকে যান। গোল হওয়ার পর তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে দাবি করেন, তিনি “বিসমিল্লাহ” বলেছেন।

উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক আরবি সংবাদমাধ্যমও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। অনেকেই সতর্ক ভাষায় উল্লেখ করেছে, রোনালদো সম্ভবত “বিসমিল্লাহ” বলেছিলেন। ইউরোনিউজের দোহা, দুবাই ও আরবি বিভাগের কয়েকজন সাংবাদিকও ভিডিও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একই ধরনের মত প্রকাশ করেছেন।

তাদের মতে, সৌদি লিগে খেলার সময় গুরুত্বপূর্ণ শট নেওয়ার আগে রোনালদো অতীতেও “বিসমিল্লাহ” বলতেন বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে রোনালদোর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি।

অন্যদিকে পর্তুগালে বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে। অনেক ভাষাবিদ ও ফুটবল সমর্থকের মতে, রোনালদো আসলে “Vais marcar” (তুমি গোল করবে) অথবা “Vamos lá” (চলো, এগিয়ে যাও) বলছিলেন। তাদের যুক্তি, পর্তুগিজ উচ্চারণের কারণে “ভাইশ মারকার” শব্দটি অনেকের কাছে “বিসমিল্লাহ”-এর মতো শোনাতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরবের এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “সৌদি আরবে আসার পর রোনালদো ইসলামি সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। গোল করার আগে তার ‘বিসমিল্লাহ’ বলা ছিল অত্যন্ত আবেগঘন একটি মুহূর্ত।”

অন্যদিকে পাকিস্তানের এক ব্যবহারকারী দাবি করেন, রোনালদো প্রতিটি পেনাল্টির আগে “বিসমিল্লাহ” পড়েন এবং অতীতে একটি সাক্ষাৎকারেও এমন কথা বলেছিলেন। তবে এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

সমালোচকদের একটি অংশের মতে, রোনালদো কেবল নিজেকে মানসিকভাবে অনুপ্রাণিত করতে পর্তুগিজ ভাষায় “তুমি গোল করবে” বলছিলেন, যা ভুল ব্যাখ্যার কারণে “বিসমিল্লাহ” হিসেবে প্রচারিত হচ্ছে।

এদিকে পুরো বিতর্ক নিয়ে এখনো মুখ খোলেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ম্যাচ শেষে তিনি দলের হোটেলের বাইরে অপেক্ষমাণ পর্তুগিজ সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানান এবং কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আনন্দ তাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেন।

রোনালদো আসলে কী বলেছিলেন, তার নিশ্চিত উত্তর এখনো অজানা। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি নীরব মুহূর্তই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী, ভাষাবিদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রোনালদো নিজে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা না দেওয়া পর্যন্ত বিতর্কটি চলতেই পারে।

সূত্রঃ ইউরো নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

ইউকে ব্যালটে ইন্ডিয়ান ইয়াং প্রফেশনাল স্কিম ভিসা ব্যবস্থা চালু

আয়ারল্যান্ডে ইসরায়েলি দূতাবাস বন্ধ

নিউজ ডেস্ক

মণিপুরে অস্থিতিশীলতাঃ পাঁচ দিনের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ ঘোষণা