TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনি বন্দিদের ধর্ষণে কুকুর ব্যবহারের অভিযোগ জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধির

ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রানচেস্কা আলবানিজ। তার অভিযোগ, ইসরায়েলের কারাগারে আটক ফিলিস্তিনিদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালাতে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কুকুর ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

 

আয়ারল্যান্ডের পার্লামেন্টের ইউরোপীয় বিষয়ক কমিটির সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আলবানিজ ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, এসব প্রাণী বিক্রির মাধ্যমে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নকে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

জাতিসংঘের নির্যাতনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদকের একটি যোগাযোগপত্রেও ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর যৌন নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার কয়েক ডজন ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ইসরায়েলের কারাগার ও আটককেন্দ্রগুলোতে যৌন সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে সাবেক বন্দিদের সাক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে সেদে তেইমান আটককেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে আটক ব্যক্তিদের ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনটিতে সাবেক বন্দিদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করে বন্দিদের ওপর শারীরিক ও যৌন নিপীড়ন চালানোর ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে ইউরোপ থেকে ইসরায়েলে প্রশিক্ষিত কুকুর সরবরাহ নিয়েও অনুসন্ধান চালিয়েছে বিভিন্ন গবেষণা ও মানবাধিকার সংস্থা। সেন্টার ফর রিসার্চ অন মাল্টিন্যাশনালসের অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, নেদারল্যান্ডসের একাধিক পুলিশ-কুকুর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ইসরায়েলে শতাধিক কুকুর রপ্তানির জন্য পশুচিকিৎসা-সংক্রান্ত সনদ দেওয়া হয়েছিল।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিশেষায়িত কুকুর ইউনিট ওকেটজ ইউরোপ থেকে সংগৃহীত কুকুরের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভর করে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ধারাবাহিকভাবে আপত্তি জানিয়ে আসছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও সরকারি প্রতিনিধিরা কারাগারে পরিকল্পিত নির্যাতন, ধর্ষণ এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের বক্তব্য, এসব দাবির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ নেই।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ইসরায়েলের আটককেন্দ্রগুলোতে প্রবেশের সুযোগ না থাকায় অভিযোগগুলোর যাচাই নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে।

আলবানিজের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং ইউরোপ থেকে ইসরায়েলে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য কুকুর সরবরাহের বিষয়টি নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে।

সূত্রঃ আইরিশ টাইমস

এমকে

আরো পড়ুন

হরমুজ প্রণালিতে টোল, এক জাহাজ থেকেই ২০ লাখ ডলার নিল ইরান

এবার আর চোখের বদলে চোখ নয়, নতুন হুঁশিয়ারি ইরানের

কর্মী সংকট মেটাতে অভিবাসীদের চায় সার্বিয়া, সহজ করছে ওয়ার্ক পারমিট