19.2 C
London
June 20, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকবাংলাদেশ

বাংলাদেশ নিয়ে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যে কূটনৈতিক আলোচনাঃ আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাস-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রেউভেন আজার। তার এ বক্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেউভেন আজার দাবি করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর থেকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে সংগঠনটির সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু কার্যক্রমের ওপর নজর রাখছে ইসরায়েল। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক বিস্তারের সম্ভাবনা নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে এবং বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে।

তবে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের এই দাবির পক্ষে সাক্ষাৎকারে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

সাক্ষাৎকারে রেউভেন আজার পাকিস্তানের ভূমিকাও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগে পাকিস্তানকে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইসরায়েল বিশ্বাস করে না। একই সঙ্গে তিনি পাকিস্তানের কিছু মহলে ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য প্রচারের অভিযোগও তোলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এবং গাজা পরিস্থিতিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতি নতুন মোড় নিয়েছে। একই সঙ্গে ভারত, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত সম্পর্কও ক্রমশ গভীর হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় উগ্রবাদ ও আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। গত দুই দশকে এ অঞ্চলে বিভিন্ন উগ্রপন্থী সংগঠনের কার্যক্রম মোকাবিলায় বাংলাদেশ, ভারত ও অন্যান্য দেশ গোয়েন্দা সহযোগিতা বাড়িয়েছে। বাংলাদেশও দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিবাদবিরোধী ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির কথা বলে আসছে এবং বিভিন্ন উগ্রবাদী সংগঠনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করেছে।

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে হামাসের হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। এরপর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ব্যাপকভাবে অস্থির করে তোলে এবং এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা নীতিতেও প্রতিফলিত হয়।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেউভেন আজারের মন্তব্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুকে নতুন করে আলোচনায় আনলেও এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত যেকোনো দাবি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্রঃ এনডিটিভি

এম.কে

আরো পড়ুন

ফ্রান্সের বিশ্বখ্যাত লুভর জাদুঘরে ডাকাতি, একদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা

ঋণখেলাপির দায়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না মান্না

সৌদি ছাড়লেও দেশে ফেরেননি রাষ্ট্রদূত জাবেদ পাটোয়ারী