ভুয়া লিংকে ক্লিক করার পর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন ব্যারিস্টার এম কিউ হাসান। তার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশে থাকা তার বোনের কাছে টাকা চাওয়া হয়। বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই তার বোন প্রতারকচক্রকে ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে হ্যাকার ও প্রতারকচক্র আরও টাকা দাবি করে। এ ঘটনায় পরিচিতজনদের সতর্ক করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন ব্যারিস্টার এম কিউ হাসান।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ব্যারিস্টার এম কিউ হাসান জানান, গতকাল হাবিব রহমানের কাছ থেকে তিনি একটি লিংক পান। বাংলাদেশ থেকে পাঠানো একটি বিএমএ কার্ডসংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে লিংকটি যুক্ত ছিল। সেটি দেখে তার মনে হয়েছিল, লিংকটি বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিষয়টি সত্যতা যাচাই না করেই তিনি লিংকটিতে ক্লিক করেন। তখন তার কাছে কোনো অস্বাভাবিক কিছু ধরা পড়েনি।
পরদিন ভোরে বাংলাদেশে থাকা তার বোন ফোন করে জানান, কেউ তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টাকা চেয়েছে। পরিচিত ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে বার্তা আসায় তিনি ৫০ হাজার বাংলাদেশি টাকা পাঠিয়ে দেন। এরপর প্রতারক আরও টাকা দাবি করে। একইভাবে ব্যারিস্টার হাসানের পরিচিত অন্য ব্যক্তিদের কাছেও টাকা চেয়ে বার্তা পাঠানো হয় বলে তিনি জানান।
ঘটনাটি জানার পরপরই তিনি ফেসবুকে সতর্কবার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে স্পষ্ট করে জানান, তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে কেউ টাকা চাইলে তা না দিতে এবং বিকাশের মাধ্যমে কোনো লেনদেন না করতে পরিচিতজনদের অনুরোধ করেন তিনি।
ব্যারিস্টার এম কিউ হাসান জানান, কিছুটা খোঁজখবর ও অনুসন্ধানের পর তিনি তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে প্রতারণার কারণে তার বোনের ৫০ হাজার টাকা হারানোর ঘটনায় তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো লিংক আসল কি না নিশ্চিত না হয়ে তাতে ক্লিক করা উচিত নয়। পরিচিত ব্যক্তি কিংবা বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করেও প্রতারণামূলক লিংক পাঠানো হতে পারে। তাই সন্দেহজনক কোনো লিংক পেলে অন্য কোনো যোগাযোগমাধ্যমে প্রেরকের সঙ্গে কথা বলে সেটির সত্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া পরিচিত কারও অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চেয়ে বার্তা এলে অর্থ পাঠানোর আগে সরাসরি ফোন করে পরিচয় ও দাবির সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। প্রতারণার শিকার হওয়া এড়াতে বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ব্যারিস্টার হাসান।
সাইবার প্রতারণার এ ধরনের ঘটনায় ভুয়া লিংকের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং পরিচিতজনদের কাছে জরুরি অর্থের আবেদন পাঠিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া, অপরিচিত লিংকে প্রবেশ করা কিংবা যাচাই ছাড়া আর্থিক লেনদেন করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।
সূত্রঃ ব্যারিস্টার এম কিউ হাসানের ফেসবুকে প্রকাশিত সতর্কবার্তা।
এমকে

