বাংলাদেশের সাধারণ পাসপোর্টে আবারও ফিরছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শর্ত। একইসঙ্গে পাসপোর্টের ভেতরের পাতার জলছাপ, নকশা ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যেও আনা হচ্ছে বড় ধরনের পরিবর্তন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন নকশার পাসপোর্টে পুনরায় যুক্ত করা হচ্ছে—“দিস পাসপোর্ট ইজ ভ্যালিড ফর অল কান্ট্রিজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড এক্সেপ্ট ইসরায়েল” অর্থাৎ “এই পাসপোর্ট ইসরায়েল ব্যতীত বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ” বাক্যটি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের পূর্ববর্তী অবস্থান আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে পাসপোর্টে প্রতিফলিত হতে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে ই-পাসপোর্ট চালুর সময় এই বাক্যটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিস্তিন ইস্যু, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দেশীয় জনমতের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার পুনরায় ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শর্ত ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে।
এদিকে শুধু শর্ত সংযোজনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না পরিবর্তন। পাসপোর্টের ভেতরের পাতার প্রায় এক ডজন জলছাপেও বড় ধরনের রদবদল আনা হচ্ছে। আগের সরকারের আমলে ব্যবহৃত বিভিন্ন স্থাপনা, রাজনৈতিক প্রতীক ও ব্যক্তির ছবি সরিয়ে ফেলা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এর পরিবর্তে নতুন জলছাপে স্থান পাচ্ছে দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক ঘটনাবলির প্রতীকী উপস্থাপন।
নতুন সংযোজনের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রতীক হিসেবে শহীদ আবু সাঈদের ছবি অন্তর্ভুক্ত করা। দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা তার প্রতীকী ছবিকে নতুন বাংলাদেশের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের স্মারক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক নিদর্শনও নতুন জলছাপে যুক্ত করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন নকশা ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য চূড়ান্ত হওয়ার পর ধাপে ধাপে নতুন পাসপোর্ট সরবরাহ শুরু হবে। তবে বর্তমানে যাদের পাসপোর্ট রয়েছে, তাদের নতুন করে কোনো পদক্ষেপ নিতে হবে না। বিদ্যমান পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নবায়নের সময় নতুন নকশার পাসপোর্ট দেওয়া হবে।
পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে আরও জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য আধুনিকায়নের কাজও চলমান রয়েছে। নতুন জলছাপ, উন্নত কাগজ, বিশেষ নিরাপত্তা চিহ্ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর যাচাইকরণ পদ্ধতি যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে জালিয়াতি প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী করা যায়।
সরকারের এই উদ্যোগকে অনেকে জাতীয় পরিচয়, কূটনৈতিক অবস্থান ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলছে নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া।
সূত্রঃ টাইম টেলিভিশন
এম.কে

