13.8 C
London
October 5, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

বিদেশি কর্মীর জন্য ভিসা দিতে নিয়মিত চাপ আসেঃ দাবি ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে বিদেশি কর্মীদের জন্য আরও ভিসা দেওয়ার অনুরোধ তিনি নিয়মিত পান। কিন্তু তার মতে, দক্ষতার ঘাটতি পূরণে বারবার অভিবাসনের পথ বেছে নেওয়ার বদলে ব্রিটিশ নাগরিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলা প্রয়োজন।

রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, ‘দ্য রেস্ট ইজ পলিটিক্স’ পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাবানা মাহমুদ বলেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রায়ই তাকে বিদেশি কর্মীদের জন্য ভিসা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি ওয়েল্ডার বা ঝালাই কর্মীদের কথা উল্লেখ করেন।

মাহমুদ বলেন, কখনো তাকে বলা হয়, ‘এখানে ১০ জন ওয়েল্ডারের প্রয়োজন, তাদের জন্য ভিসা দেওয়া যাবে কি না?’ জবাবে তিনি প্রশ্ন তোলেন—ব্রিটেনে কি ১০ জন ওয়েল্ডারও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিদেশি কর্মী আনার বিষয়টি সরকারের কাছে একটি সহজ সমাধানে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দেশের নিজস্ব শ্রমবাজার নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে। দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষা ও পুনঃপ্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের বিদ্যমান কর্মীদের প্রয়োজনীয় কাজে প্রস্তুত করা উচিত।

তিনি জানান, এ ধরনের ভিসার অনুরোধ একবার-দুবার নয়; প্রায় প্রতি এক থেকে দুই সপ্তাহে এমন একটি আলোচনা তার সঙ্গে হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর যুক্তি হলো, দ্রুত কোনো খাতের কর্মী সংকট পূরণ করতে বিদেশি কর্মী আনা সবচেয়ে সহজ উপায়। তবে মাহমুদের মতে, এভাবে তাৎক্ষণিক সমাধানের বদলে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মশক্তি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

ব্রিটেনে বর্তমানে ওয়েল্ডিংসহ ২৮টি মধ্যম-দক্ষতার পেশাকে সাময়িকভাবে ঘাটতি থাকা পেশার তালিকায় রাখা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সীমিতসংখ্যক বিদেশি কর্মী আনার সুযোগ রয়েছে। তবে এর সঙ্গে ব্রিটিশ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ভবিষ্যতে বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজন কমানোর শর্তও রয়েছে।

মাহমুদ বলেন, বিদেশি কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে ব্রিটেনে বিপুলসংখ্যক তরুণ কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে থেকে যাচ্ছে। তার মতে, যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছে তাদের দক্ষতার প্রয়োজন কী, সে বিষয়ে যথেষ্ট পরিকল্পনা না করে বিদেশি কর্মী আনা সহজ পথ হয়ে গেছে।

বিদেশি কর্মীদের কম মজুরি ও দুর্বল কর্মপরিবেশের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে সামাজিক সেবাখাতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মাহমুদ বলেন, এ খাতে কম বেতন, দুর্বল কর্মপরিবেশ এবং কখনো কখনো কর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে শ্রমিক দলের সরকারের অবস্থানও সাক্ষাৎকারে উঠে আসে। মাহমুদ বলেন, আগামী নির্বাচনের আগে অভিবাসনকে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্র থেকে সরিয়ে আনতে তিনি সরকারের কঠোর অভিবাসন সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে চান।

এরই মধ্যে তার প্রস্তাবিত নতুন অভিবাসন নীতি নিয়ে লেবার পার্টির ভেতরেও মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। নতুন পরিকল্পনা কার্যকর হলে যুক্তরাজ্যে ইতোমধ্যে থাকা হাজার হাজার অভিবাসীকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ইন্ডেফিনিট লিভ টু রিমেইন পেতে আগের তুলনায় আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।

কমিউনিটিজ সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলা রেনার এই প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেছেন, এতে আগে থেকে যুক্তরাজ্যে থাকা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে নিয়ম পরিবর্তন করা হবে এবং অনেকের জন্য এটি অন্যায্য হতে পারে। বিশেষ করে বিদেশি কেয়ার কর্মীরা ব্রিটেনে এসে মানুষের সেবায় কাজ করছেন—তাদের ক্ষেত্রেও প্রস্তাবটির প্রভাব পড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে মাহমুদ বলেন, সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও তা প্রকাশ্যে সরকারের যৌথ অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে। অভিবাসন নীতি নিয়ে তিনি সরকারের কঠোর অবস্থান বাস্তবায়নের পক্ষে থাকার কথা জানান।

সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যে ছোট নৌকায় করে আসা অভিবাসীদের নিয়েও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলে থাকা ছোট নৌকার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে আসতে চাওয়া প্রায় প্রতিটি নারীই যাত্রাপথে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। কিছু পুরুষও নির্যাতন ও হুমকির শিকার হন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে মাহমুদ বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি কাউকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ ও পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্তের একমাত্র ভিত্তি হওয়া উচিত নয়।

প্যালেস্টাইন অ্যাকশন সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়েও কথা বলেন মাহমুদ। তিনি বলেন, আইনের প্রয়োগ সবার ক্ষেত্রে সমান হওয়া উচিত। একই আইনের আওতায় নিষিদ্ধ শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী সংগঠনের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের প্রকাশ্য সমর্থকদের ক্ষেত্রেও একই আইনি মানদণ্ড প্রয়োগ করতে হবে।

নিজের ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও কথা বলেন তিনি। মাহমুদ জানান, ধর্ম তার ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং তিনি এটিকে গোপন করেন না। লেবার পার্টির ভেতরে ধর্মকে শুধু পরিচয়ের বিষয় হিসেবে দেখার প্রবণতা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবার পার্টির সরকার ক্ষমতায় আসার পর অভিবাসন কমানোর বিভিন্ন পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের নিট অভিবাসন সর্বোচ্চ প্রায় ৯ লাখ ৪৪ হাজারে পৌঁছানোর পর তা গত বছরের শেষ নাগাদ প্রায় ৭ লাখ ১ হাজারে নেমে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এমকে

আরো পড়ুন

অপরাধীদের ধরতে যুক্তরাজ্যে পরীক্ষাধীন ‘টার্মিনেটর-স্টাইল’ রোবট কুকুর

গোপনীয়তা ভঙ্গের মামলায় প্রিন্স হ্যারি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন

‘সবচেয়ে খারাপ’ হলেও ঘুরে দেখার মতো—লন্ডনের নিচের দশ কাউন্সিলের অজানা সৌন্দর্য