বিদেশি নাগরিকদের বিনিয়োগের বিনিময়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার নতুন সুযোগ চালু করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। দেশটির সরকার জানিয়েছে, চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এই কর্মসূচির আবেদন প্রক্রিয়া চালু হতে পারে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কর্মসূচিটির ঘোষণা দেন আর্জেন্টিনার অর্থমন্ত্রী লুই কাপুতো। দেশটির সরকারের লক্ষ্য হলো বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনীতিতে নতুন করে বৈদেশিক অর্থের প্রবাহ বাড়ানো।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বিদেশি আবেদনকারীদের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে অফেরতযোগ্য ৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
এর বিকল্প হিসেবে ৮ লাখ মার্কিন ডলারের পাবলিক বন্ড কেনার সুযোগও রাখা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
আর্জেন্টিনার অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করাই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। সরকারের আশা, এর ফলে দেশটির অর্থনীতিতে বৈদেশিক মূলধনের প্রবাহ বাড়বে।
কর্মসূচিটি আর্জেন্টিনার অর্থনীতিকে আরও উন্মুক্ত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থনীতির সঙ্গে দেশটির একীভূত হওয়ার চলমান প্রক্রিয়ার অংশ। প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের সরকার অর্থনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা ও সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
শুধু মূল আবেদনকারী নয়, তার পরিবারের সদস্যদের জন্যও এই কর্মসূচিতে নাগরিকত্বের আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। আবেদনকারীর জীবনসঙ্গী এবং ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা সরকারি তহবিলে ১ লাখ ডলার জমা দিয়ে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
অন্যদিকে ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানদের ক্ষেত্রে জমার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার ডলার।
অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেই আর্জেন্টিনা এই কর্মসূচি সামনে আনল। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে হাভিয়ের মিলেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশটির মাসিক মূল্যস্ফীতি ছিল ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের আগস্টে মাসিক মূল্যস্ফীতি কমে ১ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
তবে মূল্যস্ফীতি কমলেও দেশটির ঋণ পরিশোধের চাপ এবং সরকারের কঠোর আর্থিক সংকোচন নীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে। এর মধ্যেই বিদেশি নাগরিকদের বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়ার নতুন কর্মসূচি দেশটির অর্থনীতিতে কতটা বৈদেশিক বিনিয়োগ আনতে পারে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সূত্রঃ রয়টার্স\ এএফপি
এমকে

