যুক্তরাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন মামলায় উচ্চ আদালত রায় দিয়েছে, বৈধভাবে দেশটিতে বসবাসের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও এক নারীকে বিমানবন্দরে আটকে রাখা বেআইনি ছিল। আদালতে ব্রিটিশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও স্বীকার করেছে যে, তাদের দায়িত্ব পালনে ত্রুটি ছিল।
ঘানার নাগরিক রোসিনা ডেভিস পারিবারিক কারণে যুক্তরাজ্যে বসবাসের বৈধ অনুমতি পেয়েছিলেন। কিন্তু একটি পৃথক অভিবাসন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর হোম অফিসের কম্পিউটার সিস্টেমে তার নামে একটি ‘স্টপ’ সতর্ক সংকেত যুক্ত হয়।
২০২৩ সালের মার্চে বিদেশ সফর শেষে দেশে ফেরার সময় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয় যে তার বৈধ অনুমতি রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তখন ওই সতর্ক সংকেতটি মুছে ফেলার কথা ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি।
এর ফল ভোগ করতে হয় একই বছরের আগস্টে। স্পেন থেকে যুক্তরাজ্যে ফেরার পর বিমানবন্দরে কম্পিউটার সিস্টেম তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপর তাকে আলাদা একটি অপেক্ষমাণ কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার কাগজপত্র যাচাই করা হয়। আদালত পরে জানতে পারে, তাকে প্রায় ৩০ মিনিট আটকে রাখা হয়েছিল।
এ ঘটনায় রোসিনা ডেভিস আদালতের দ্বারস্থ হন। তিনি অভিযোগ করেন, হোম অফিসের ভুলের কারণেই তাকে অযথা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
উচ্চ আদালত রায়ে বলেছে, অভিবাসন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে সতর্ক সংকেত যুক্ত করার নীতি সাধারণভাবে বৈধ। তবে রোসিনা ডেভিসের ক্ষেত্রে বৈধ অনুমতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সংকেতটি সরিয়ে ফেলা উচিত ছিল। তা না করায় পরবর্তীতে তাকে আটক রাখা বেআইনি হয়েছে।
তবে আদালত মনে করেছে, সীমান্তে কারও অভিবাসন অবস্থা যাচাইয়ের জন্য স্বল্প সময়ের আটক মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে না।
মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সমতা-সংক্রান্ত সরকারি দায়িত্ব। আদালতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বীকার করে যে, তাদের ক্ষমতা প্রয়োগের ফলে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়ে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রায় হোম অফিসের তথ্য ব্যবস্থাপনা ও বিমানবন্দরের অভিবাসন যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে এটি একটি সতর্কবার্তা যে, প্রশাসনিক ভুলের কারণে বৈধ কাগজপত্রধারী ব্যক্তিদের হয়রানি হলে সরকারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট
এম.কে

