13.7 C
London
October 17, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটিশ বাবার ভুলে সাইপ্রাসের হোটেলের চারতলা থেকে পড়ে ২ বছরের ছেলের মৃত্যু

সাইপ্রাসে পাঁচতারা হোটেলের চতুর্থ তলার জানালা থেকে পড়ে দুই বছর বয়সী ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবাকে ৩ হাজার ইউরো জরিমানা করেছেন আদালত। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই জরিমানার পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ছেলেকে জানালার কার্নিশে বসানোর সময় জানালাটি বন্ধ রয়েছে বলে মনে করেছিলেন বাবা। কিন্তু অসাবধানতার কারণে ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৭ বছর বয়সী জশুয়া ফস্টার যুক্তরাজ্যের এসেক্সের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন নিরীক্ষক। গত ১২ জুলাই পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে সাইপ্রাসে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন তার স্ত্রী, দুই সন্তান এবং শ্বশুর-শাশুড়ি।

সাইপ্রাসের ক্লোরাকাস এলাকায় অবস্থিত পাঁচতারা কিং এভেলথন বিচ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে উঠেছিল পরিবারটি। ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপটির পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত হোটেলটিতে ছুটি কাটানোর প্রথম দিন তারা বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশ নেন এবং সুইমিং পুলে সময় কাটান। সন্ধ্যায় রাতের খাবারের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ঘটে দুর্ঘটনাটি।

আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে ফস্টার তার শ্বশুর ও দুই বছরের ছেলেকে নিয়ে লিফটের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় শিশুটি হোটেলের বাইরে থাকা ওয়াটার পার্ক দেখতে পায়। ফস্টার লিফটের বোতাম চাপার পর ছেলেকে জানালার কার্নিশে বসিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখানোর চেষ্টা করেন। তার ধারণা ছিল, জানালাটি বন্ধ রয়েছে।

কিন্তু জানালার একটি অংশ খোলা ছিল। ফস্টার বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই শিশুটি প্রায় ৪০ ফুট বা ১২ দশমিক ১ মিটার নিচে পড়ে যায়। দ্রুত তাকে পাফোস জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

পাফোস জেলা আদালতের বিচারক ফ্রোসো ক্রিস্টোদৌলিদু বলেন, জানালাটিতে এমন কোনো চিহ্ন ছিল না, যা দেখে সহজেই বোঝা যেত যে এর একটি অংশ খোলা রয়েছে। তবে জানালাটি বন্ধ কি না, তা নিশ্চিত না হয়েই শিশুটিকে সেখানে বসানো হয়েছিল। বিচারকের ভাষায়, এটি ছিল মুহূর্তের একটি ভুল, যার পরিণতি হয়েছে প্রাণঘাতী।

ফস্টার স্বীকার করেছেন, তার বেপরোয়া, হঠকারী বা বিপজ্জনক আচরণের কারণে ছেলের মৃত্যু হয়েছে। আদালত তাকে ৩ হাজার ইউরো জরিমানা করেন। বিচারক আরও বলেন, শিশুটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সন্তানের মৃত্যুতে একজন বাবার ব্যক্তিগত জীবনে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, কোনো সাজাই তা পূরণ করতে পারে না।

পুলিশকে দেওয়া স্বেচ্ছামূলক জবানবন্দিতে ফস্টার বলেন, তিনি ছেলেকে জানালার কার্নিশে বসানোর পর শিশুটি পড়ে যায়। তাকে ধরে ফেলার সুযোগও তিনি পাননি। ঘটনার সময় তার শরীরে অ্যালকোহল ছিল। তবে মামলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠেনি। তার আইনজীবী আলেক্সান্দ্রোস আলেক্সান্দ্রু বলেন, ফস্টার মাতাল ছিলেন—এমন কোনো সাক্ষ্য আদালতে উপস্থাপিত হয়নি।

রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফস্টারের আইনজীবী বলেন, মামলাটি কখনোই আদালত পর্যন্ত গড়ানো উচিত ছিল না। দুর্ঘটনার পর ফস্টার আট দিন আটক ছিলেন। এ সময় আটকাবস্থায় তাকে নিজের মেয়েকে ফোন করে কী ঘটেছে, তা জানাতে হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন আইনজীবী।

তার দাবি, এই তিন মাসের আইনি প্রক্রিয়ার কারণে ফস্টার নিজের মতো করে শোক প্রকাশ এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি তার মক্কেলকে একজন অসাধারণ বাবা হিসেবে বর্ণনা করেন।

অন্যদিকে, ফস্টারের পরিবার এক বিবৃতিতে জানায়, আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছে। তবে এই মর্মান্তিক ঘটনার পরিণতি তাদের পরিবারের জীবনে চিরকাল থেকে যাবে। তাদের ভাষায়, ছেলেটি ছিল পরিবারের অত্যন্ত প্রিয় সন্তান এবং তার শূন্যতা তারা প্রতিদিন অনুভব করবেন।

সূত্রঃ বিবিসি

এমকে

আরো পড়ুন

নতুন রেকর্ড ভাঙল এনএইচএসের ওয়েটিং লিস্ট

হাজারো ইইউ নাগরিকের বেনিফিট বন্ধ হবে আগামী মাসে

অনলাইন ডেস্ক

প্রিন্স হ্যারির জন্মে খুশি ছিলেন না বাবা