TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ নাকি ভুল হিসাব—ফারাজ-জেনরিক নাটক

নাইজেল ফারাজের সংবাদ সম্মেলনে রবার্ট জেনরিককে ঘিরে তৈরি হওয়া নাটক ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফারাজ দাবি করেন, জেনরিক তার দলে যোগ দিচ্ছেন এবং এটি মধ্য-ডানপন্থী রাজনীতিকে নতুনভাবে পুনর্বিন্যাস করতে সহায়ক হবে। তবে প্রত্যাশিত মুহূর্তে জেনরিক মঞ্চে হাজির না হওয়ায় পুরো ঘোষণাটি নিয়ে তৈরি হয় বিভ্রান্তি।

সংবাদ সম্মেলনে ফারাজ বলেন, তিনি মূলত লেবার সরকারের স্থানীয় নির্বাচন বিলম্বের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ লক্ষ্যে বিচারিক পর্যালোচনার পক্ষে একটি আইনি নথি উপস্থাপনের কথাও ছিল। কিন্তু পরিস্থিতির আকস্মিক পরিবর্তনে তাকে পরিকল্পনা বদলাতে হয় বলে তিনি দাবি করেন।

ফারাজের ভাষ্য অনুযায়ী, কনজারভেটিভ দলের ভেতরে এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে যে মে মাসের নির্বাচনের পর দলটি আর জাতীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে টিকে নাও থাকতে পারে। এই প্রেক্ষাপটেই জেনরিককে ঘিরে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তিনি জানান, জেনরিকের দপ্তর থেকে ফাঁস হওয়া নোটে ইঙ্গিত ছিল—জেনরিক আজ, আগামীকাল বা নিকট ভবিষ্যতে দলে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেননি।

ফারাজ স্বীকার করেন, আলোচনার ধরন বিবেচনায় জেনরিকের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৬০/৪০। অর্থাৎ বিষয়টি নিশ্চিত ছিল না। এ অবস্থায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন তিনি। ফারাজ আরও বলেন, কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনকের অবস্থান তাকে ‘দেরিতে পাওয়া ক্রিসমাস উপহার’ দিয়েছে, যা এই রাজনৈতিক মুহূর্তকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে।

এদিকে জেনরিক নিজ বক্তব্যে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ব্রিটেন বহু দশক ধরেই অবনতির পথে রয়েছে এবং এখন সত্য বলার সময় এসেছে। তাঁর দাবি, ১৯৭০ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রকৃত মজুরি প্রতি দশকে এক-তৃতীয়াংশ করে কমেছে এবং পরবর্তী সময়েও আয় কার্যত স্থবির হয়ে আছে।

জেনরিক আরও বলেন, সহস্রাব্দের শুরুতে একজন গড় ব্রিটিশ নাগরিকের আয় একজন গড় পোলিশ নাগরিকের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি ছিল। কিন্তু বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে ব্রিটেন সেই অবস্থান হারিয়ে আরও পিছিয়ে পড়বে। তার মতে, লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বাইরে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা পোল্যান্ডের চেয়ে বরং বুলগেরিয়ার কাছাকাছি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, সেবা খাত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি কর্মক্ষম বয়সী প্রতি পাঁচজন ব্রিটিশের একজন কাজের বাইরে থাকার বিষয়টিকে তিনি অর্থনৈতিক অবনতির বড় লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরেন।

সব মিলিয়ে, ফারাজের ঘোষণার পর জেনরিকের অনুপস্থিতি এবং পরবর্তী বক্তব্য ব্রিটিশ মধ্য-ডানপন্থী রাজনীতিতে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে। এটি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের সূচনা নাকি কেবল ভুল হিসাব—সে প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি রিপোর্টে কঠোর সতর্কবার্তা বিচারকের

যুক্তরাজ্যে ডিজিটাল আইডি চালুর দাবি রোচডেল এমপিরঃ বেআইনি শ্রম বন্ধে রাজনৈতিক চাপ

যুক্তরাজ্যে বেনিফিট জালিয়াতি বন্ধে আসছে নতুন ক্র‍্যাক ডাউন