বন্দি প্রেমিকের জন্য কারাগারে মাদক ও অন্যান্য নিষিদ্ধ সামগ্রী পাচারের দায়ে ব্রিটেনে ৬১ বছর বয়সী এক ফার্মেসি টেকনিশিয়ানকে ছয় বছর তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত নারীর নাম তানিয়া পেট্রি। তিনি নর্থ সমারসেটের ওয়ার্ল এলাকার বাসিন্দা এবং ব্রিস্টলের এইচএমপি ব্রিস্টল কারাগারে অক্সলিয়াস এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের হয়ে কাজ করতেন।
আদালতে বলা হয়, কারাগারে কর্মরত অবস্থায় পেট্রির এক বন্দির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ওই বন্দি প্রথম তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাদের কথাবার্তা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে পরিণত হয়।
২০২৩ সালের অক্টোবরে পুলিশ পেট্রিকে কারাগারের কাছাকাছি একটি ময়লার বিন থেকে একটি প্যাকেট সংগ্রহ করতে দেখতে পায়। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি ওই প্যাকেটটি সংগ্রহ করেন। পুলিশের ধারণা ছিল, প্যাকেটটি তার কারাগারে থাকা প্রেমিক বন্দির কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল।
প্যাকেটের ভেতরে প্রায় দুই আউন্স উচ্চমাত্রায় বিশুদ্ধ কোকেন, ৭৭ গ্রাম ‘স্পাইস’ পেস্ট এবং তামাক পাওয়া যায়। ‘স্পাইস’ হলো কৃত্রিম একটি মাদক, যা গাঁজার মতো প্রভাব সৃষ্টি করার জন্য তৈরি করা হয়।
ওই দিন সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে কারাগারে নিষিদ্ধ সামগ্রী নেওয়ার সন্দেহে পেট্রিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পেট্রি স্বীকার করেন, প্যাকেটটি সংগ্রহ করার বিনিময়ে তাকে ৮০০ পাউন্ড দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ময়লার বিনের ভেতরে ওই অর্থ রাখা হয়েছিল।
তিনি আরও স্বীকার করেন, এর আগে ২ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে সাতটি সিম কার্ড কারাগারের ভেতরে নিয়ে গিয়েছিলেন।
এই ঘটনায় ব্রিস্টল ক্রাউন কোর্টে পেট্রির বিরুদ্ধে দুটি পৃথক অভিযোগে দোষ প্রমাণিত হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কারাগারের ভেতরে বা বাইরে ‘লিস্ট বি’ শ্রেণির নিষিদ্ধ সামগ্রী বহনের অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
এর পরের মাসে ‘লিস্ট এ’ শ্রেণির নিষিদ্ধ সামগ্রী কারাগারে প্রবেশ করানো বা কারাগার থেকে বের করে নেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালত পেট্রিকে ছয় বছর তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়।
সাজা ঘোষণার সময় আদালতকে জানানো হয়, জব্দ করা কোকেনের বিশুদ্ধতার মাত্রা ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। কারাগারের ভেতরে বিক্রি করা হলে ওই কোকেনের সম্ভাব্য মূল্য ১২ হাজার ৫০০ থেকে ২১ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারত।
পেট্রির আর্থিক পরিস্থিতি এবং বন্দির সঙ্গে তার সম্পর্কও তার কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য বিবেচনার সময় আদালত আমলে নেয়।
বিচারক বলেন, পেট্রি জানতেন ওই ব্যক্তি কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তারপরও তিনি তার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন এবং নিজের আর্থিক সমস্যার কারণে ধরা পড়ার ঝুঁকি জেনেও নিষিদ্ধ সামগ্রী কারাগারে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মামলাটি পরে জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যাল কাউন্সিল-এর একটি পেশাগত শুনানিতেও যায়। শুনানিতে পেট্রিকে পেশাগত রেজিস্টার থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শুনানির সভাপতি জোয়ানা বাওয়ার বলেন, পেট্রির আচরণ ফার্মেসি পেশায় প্রত্যাশিত মানদণ্ডের গুরুতর লঙ্ঘন। তার কর্মকাণ্ড তার দায়িত্বে থাকা বন্দিদের কল্যাণের প্রতি অবহেলা এবং কারাগারের সামগ্রিক প্রশাসন ও নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে।
শুনানিতে আরও বলা হয়, পেট্রি তার ওপর অর্পিত বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং পেশাগত সততা প্রদর্শন করেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন বন্দির সঙ্গে ফ্লার্টপূর্ণ যোগাযোগ বজায় রেখে তিনি পেশাগত সীমারেখাও অতিক্রম করেছেন।
নিজের পেশাগত অবস্থান ব্যবহার করে কারাগারে নিষিদ্ধ সামগ্রী প্রবেশ করানোকে গুরুতর বিশ্বাসভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শুনানিতে বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্দিদের জন্য উল্লেখযোগ্য ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করেছে।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এম.কে

