ব্রিটেনে গণপরিবহনে মোবাইল ফোনে উচ্চ শব্দে গান বা ভিডিও চালানো, স্পিকারফোনে কথা বলা, ধূমপানের বিকল্প হিসেবে ভ্যাপিং এবং যত্রতত্র ময়লা ফেলার মতো বিরক্তিকর আচরণ বন্ধে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব আচরণ বন্ধে যাত্রীদের সচেতন করার পাশাপাশি বাসে নিয়ম না মানলে সর্বোচ্চ ১০০ পাউন্ড জরিমানার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম গণপরিবহনে যাত্রীদের অসদাচরণ নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রচারাভিযান ঘোষণা করেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।
নতুন উদ্যোগের আওতায় ইংল্যান্ডের স্থানীয় পরিবহন কর্তৃপক্ষকে বাসে যাত্রীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে নতুন ক্ষমতা ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হবে। বাস সার্ভিসেস অ্যাক্টের আওতায় এসব কর্তৃপক্ষ নিজস্ব নিয়ম নির্ধারণ ও তা কার্যকর করতে পারবে। কোনো যাত্রী বিরক্তিকর আচরণ বন্ধ করার নির্দেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ ১০০ পাউন্ড জরিমানা করা যেতে পারে।
তবে বাসচালকদের এসব নিয়ম কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হবে না। এ কাজ করবেন পরিবহন নিরাপত্তাকর্মী অথবা পুলিশ সদস্যরা। অন্যদিকে, ট্রেনে একই ধরনের আচরণের জন্য জরিমানা করার ক্ষমতা আগে থেকেই রয়েছে ট্রেন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর। এ ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ সর্বোচ্চ এক হাজার পাউন্ড হতে পারে।
সরকারের নতুন প্রচারাভিযানে ‘শেয়ার দ্য ক্যারেজ, নট দ্য নয়েজ’—অর্থাৎ ‘শব্দ নয়, যাত্রাপথ ভাগ করে নিন’ স্লোগান ব্যবহার করা হবে। যাত্রীদের হেডফোন ব্যবহার, স্পিকারফোনে কথা বলা থেকে বিরত থাকা এবং মোবাইলে ভিডিও দেখার সময় শব্দ বন্ধ বা কম রাখার আহ্বান জানানো হবে।
বার্নহাম বলেন, ট্রেনে যাত্রার সময় কেউ মোবাইল ফোনে উচ্চ শব্দে গান বা ভিডিও চালালে তা অন্য যাত্রীদের বিরক্ত করে এবং পুরো যাত্রার পরিবেশ নষ্ট করতে পারে। নতুন প্রচারাভিযান ও স্থানীয় পরিবহন কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত ক্ষমতার মাধ্যমে যাত্রীদের যাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এর আগে লন্ডনের মেয়র সাদিক খানও গণপরিবহনে যাত্রীদের দায়িত্বশীল আচরণে উৎসাহিত করতে প্রচারাভিযান চালু করেন। অন্যদিকে, লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা বাস ও ট্রেনে উচ্চ শব্দে গান বাজানো যাত্রীদের সর্বোচ্চ এক হাজার পাউন্ড জরিমানার দাবি জানিয়েছে।
ইউগভের একটি জরিপে দেখা গেছে, বাস ও ট্রেনে উচ্চ শব্দে গান বাজানো ব্যক্তিদের এক হাজার পাউন্ড জরিমানা করার প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন রয়েছে অনেক ভোটারের। তবে পরিবহন শ্রমিকদের সংগঠন ইউনাইটের সাধারণ সম্পাদক শ্যারন গ্রাহাম সরকারের নতুন উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তার মতে, প্রস্তাবিত জরিমানা বাসকর্মীদের প্রতিদিনের সহিংসতা ও অন্যান্য গুরুতর সমস্যার সমাধানে যথেষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, বাস সার্ভিসেস অ্যাক্টের আওতায় নতুন নির্দেশনা শুধু ইংল্যান্ডের জন্য প্রযোজ্য।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এমকে

