23.9 C
London
June 18, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে বেকারত্ব কমে ৪.৯ শতাংশঃ প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত বাড়ছে মজুরি

যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারে একদিকে বেকারত্বের হার কমেছে, অন্যদিকে প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত হারে বেড়েছে শ্রমিকদের মজুরি। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকা সত্ত্বেও দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক অব ইংল্যান্ড নতুন করে নীতিগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

সর্বশেষ শ্রমবাজারের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে যুক্তরাজ্যের বেকারত্বের হার কমে ৪ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থনীতিবিদদের অনেকেই বেকারত্বের হার আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন। তবে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় শ্রমবাজারে এখনও দৃঢ়তা বজায় রয়েছে।

একই সময়ে শ্রমিকদের গড় আয় ও মজুরি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে দক্ষ কর্মী সংকট ও কিছু খাতে শ্রমশক্তির ঘাটতির কারণে নিয়োগদাতাদের অধিক বেতন দিতে হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, মজুরি বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদের হার কমানোর পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলতে পারে।

যদিও সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে, তবুও যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, করের চাপ এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাকরির শূন্যপদের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটি ইঙ্গিত করছে যে নিয়োগ কার্যক্রম ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন কর্মী নিয়োগে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছে।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও সতর্ক করে বলেছে, উচ্চ ঋণব্যয়, জ্বালানি খরচ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে। ফলে আগামী মাসগুলোতে শ্রমবাজারের গতি আরও মন্থর হতে পারে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের অধিকাংশের ধারণা, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের আসন্ন বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হতে পারে। বর্তমানে নীতিনির্ধারকরা বিশেষভাবে বেসরকারি খাতের মজুরি বৃদ্ধির প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করছেন। কারণ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার ধীরে ধীরে কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—মজুরি বৃদ্ধি ও শ্রমবাজারের দৃঢ়তা কি এখনও মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেওয়ার মতো শক্তিশালী, নাকি অর্থনীতির ধীরগতির কারণে আগামী মাসগুলোতে চাপ কমতে শুরু করবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। একদিকে মূল্যস্ফীতি আগের তুলনায় অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রবণতা ভোক্তা ব্যয়কে সমর্থন দিচ্ছে। তবে চাকরির সুযোগ কমে যাওয়া এবং ব্যবসায়িক আস্থার দুর্বলতা আগামী মাসগুলোতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্রঃ ওএনএস

এম.কে

আরো পড়ুন

রুয়ান্ডানীতি নিয়ে কোন পথে এগুচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার

যুক্তরাজ্যে পারমাণবিক বর্জ্য ডিসপোজালের পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক

যুক্তরাজ্যে উইন্ডরাশ স্কিমে বঞ্চিত নারীর মামলায় হোম অফিসকে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ