স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সেউতায় হাজার হাজার অভিবাসীর প্রবেশকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইউরোপের অভিবাসন সংকট। সীমান্ত পরিস্থিতিকে ‘সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া’ বলে বর্ণনা করেছেন স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। এদিকে ব্রিটেনের রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ এই ঘটনাকে ইউরোপের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের সতর্ক সংকেত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, মূলত মরক্কো থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ সেউতার তারাখাল সৈকতসংলগ্ন ব্রেকওয়াটার অতিক্রম করে স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করছে। অনেককে সীমান্তের দেয়াল ও নিরাপত্তা বেড়া টপকে ঢুকতে দেখা গেছে। আবার কেউ কেউ সীমান্ত গেট দিয়েই প্রবেশ করেন। নিরাপদে পৌঁছানোর পর অনেককে উল্লাস করতেও দেখা যায়।
পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ায় স্পেন সরকার সেউতায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি অভিবাসীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
সেউতায় স্পেনের গার্দিয়া সিভিল সদস্যদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনের প্রধান রাশিদ সিবিহি বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থা কার্যত ‘সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে’। তিনি ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিকে ‘চরম বিশৃঙ্খল’ বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ দাবি করেন, সেউতায় প্রবেশ করা অনেক অভিবাসী পরবর্তীতে ফ্রান্সের কালে শহরের দিকে যেতে পারে এবং সেখান থেকে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে।
সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ফারাজ বলেন, “হাজার হাজার, হয়তো কয়েক দশ হাজার মানুষ স্পেনের ওই ছোট্ট ভূখণ্ডে প্রবেশ করছে, অথচ কর্তৃপক্ষকে কার্যত অসহায় মনে হচ্ছে।” তিনি আরও মন্তব্য করেন, এটি ‘আমাদের সভ্যতার ভবিষ্যতের জন্য একটি লড়াই’।
তবে ফারাজের এই মন্তব্য রাজনৈতিক বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, ভবিষ্যতে কতজন অভিবাসী যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টা করবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। অন্যদিকে তার সমর্থকদের দাবি, ইউরোপজুড়ে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সেউতার চলমান সংকট শুধু স্পেনের জন্য নয়, বরং সমগ্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সমন্বয়ের জন্যও একটি বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করা হয়, তার ওপর আগামী দিনগুলোতে ইউরোপের অভিবাসন নীতির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে।
সূত্রঃ ডেইলি মেইল
এম.কে

