ব্রিটেনে শিশু অপহরণ এবং আশ্রয় আবেদনকে ঘিরে হেগ কনভেনশন ও শরণার্থী কনভেনশনের মধ্যে আইনি সংঘাত এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। ২০২১ সালে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট জি বনাম জি মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দেওয়ার পরও এই বিষয়ে নতুন করে আইনি ও বাস্তব জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে অভিবাসন আইনবিষয়ক ওয়েবসাইট ফ্রি মুভমেন্ট।
বিষয়টির মূল সমস্যা হলো, কোনো শিশুকে তার স্বাভাবিক বসবাসের দেশ থেকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসার পর যদি ওই শিশু নিজে অথবা তাকে নিয়ে আসা অভিভাবক আশ্রয়ের আবেদন করেন, তখন দুটি আন্তর্জাতিক কনভেনশনের বিধান একে অপরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে যায়।
১৯৮০ সালের হেগ কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো শিশুকে তার স্বাভাবিক বসবাসের দেশ থেকে অন্য দেশে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে দ্রুত সেই দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করার কথা। অন্যদিকে ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো আশ্রয়প্রার্থীকে এমন দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না, যেখানে তার নিপীড়নের ঝুঁকি রয়েছে।
২০২১ সালের মার্চে জি বনাম জি মামলায় যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট এই সংঘাতের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেয়। আদালত রায় দেয়, হেগ কনভেনশনের অধীনে শিশুকে ফেরত পাঠানোর আদেশ কার্যকর করা যাবে না, যদি ওই শিশু নিজে আশ্রয়ের আবেদনকারী হয় অথবা তার বাবা-মায়ের আশ্রয় আবেদনের ওপর নির্ভরশীল হয়।
এ ক্ষেত্রে আশ্রয় আবেদনটি অনুমোদিত হয়েছে, এখনো বিবেচনাধীন রয়েছে কিংবা আপিল পর্যায়ে আছে—তিন ক্ষেত্রেই ফেরত পাঠানোর আদেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে বাধা থাকবে।
সুপ্রিম কোর্ট স্বীকার করেছিল, এই অবস্থান হেগ কনভেনশনের অধীনে সাধারণত যে ছয় সপ্তাহের মধ্যে শিশুকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা, সেটিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ চূড়ান্ত আশ্রয় সিদ্ধান্ত নিতে অনেক মাস, এমনকি কয়েক বছরও লেগে যেতে পারে।
এর ফলে কোনো শিশু বা তার অভিভাবক কৌশলগতভাবে আশ্রয়ের আবেদন করে শিশুকে দ্রুত ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা করতে পারেন—এমন আশঙ্কার কথাও আদালত উল্লেখ করেছিল।
সুপ্রিম কোর্ট সে সময় বিষয়টির সমাধানে আইন পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিল। তবে কী ধরনের আইনগত সমাধান করা উচিত, সে বিষয়ে আদালত নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা দেয়নি।
ফ্রি মুভমেন্টের ৫ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জি বনাম জি মামলার পর আইনি পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে এবং বর্তমানে ওই রায়ের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ, একদিকে শিশু অপহরণের ঘটনায় শিশুকে দ্রুত তার স্বাভাবিক বসবাসের দেশে ফেরত পাঠানোর আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, অন্যদিকে আশ্রয়প্রার্থীদের নিপীড়নের ঝুঁকিপূর্ণ দেশে ফেরত না পাঠানোর নীতিও ব্রিটেনের জন্য প্রযোজ্য।
ফলে কোনো শিশু অপহরণের পর যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসা হলে এবং একই সঙ্গে আশ্রয়ের আবেদন করা হলে, শিশুকে ফেরত পাঠানো হবে কি না—তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শিশু ফেরত প্রক্রিয়া ও আশ্রয় আইনের মধ্যে জটিল আইনি সমস্যা তৈরি হয়।
সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট
এমকে

