ব্রিটেনে গাড়িতে সিটবেল্ট না পরার অপরাধে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সে তিনটি পেনাল্টি পয়েন্ট যোগ করার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে গাড়িতে থাকা শিশুদের সিটবেল্ট পরা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ চালকদের লাইসেন্সে ছয়টি পেনাল্টি পয়েন্ট দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বার্মিংহাম লাইভ। বার্মিংহাম ও উলভারহ্যাম্পটনে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরার পরীক্ষামূলক ব্যবহারে মাত্র দুই সপ্তাহে প্রায় ১৭ হাজার সম্ভাব্য সিটবেল্ট আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সরকারের প্রস্তাবিত সড়ক নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে এই শাস্তির পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে সিটবেল্ট না পরার জন্য জরিমানা হতে পারে। তবে নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি চালকদের লাইসেন্সেও পেনাল্টি পয়েন্ট যোগ হতে পারে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চালক নিজে সিটবেল্ট না পরলে তিনটি পেনাল্টি পয়েন্ট দেওয়া হতে পারে। আর গাড়িতে থাকা শিশু যাত্রীদের সিটবেল্ট পরা নিশ্চিত না করলে চালককে ছয়টি পেনাল্টি পয়েন্টের মুখে পড়তে হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে বিপুলসংখ্যক সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এতে দেখা গেছে, কিছু চালক নিজেরা সিটবেল্ট পরছেন না, আবার কেউ কেউ শিশু যাত্রীদেরও সিটবেল্ট পরানো নিশ্চিত করছেন না।
সরকারি সড়ক নিরাপত্তা কৌশলে সিটবেল্টকে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমানোর অন্যতম কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সিটবেল্ট না পরার কারণে এখনো অনেক মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন বলে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে গাড়ির ভেতরে নিহত ব্যক্তিদের ২৫ শতাংশ দুর্ঘটনার সময় সিটবেল্ট পরা অবস্থায় ছিলেন না।
ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের মেয়র রিচার্ড পার্কার বলেছেন, নিজেদের এবং অন্যদের—এমনকি ছোট শিশুদেরও—জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলার ঘটনা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে এমন পরিস্থিতি সামনে আসায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, সিটবেল্ট ও মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে আইন স্পষ্ট। বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে স্বজন হারানো পরিবারগুলোর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। এমন শোকের ক্ষতি কখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা যায় না। তাই চালকদের এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ বন্ধ করা উচিত।
সূত্রঃ বার্মিংহাম লাইভ
এমকে

