16.7 C
London
June 5, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনের আশ্রয় ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মুখে, নিয়ন্ত্রণ হারানোর সতর্কবার্তা সংসদীয় কমিটির

ব্রিটেনের আশ্রয় ব্যবস্থা তীব্র চাপের মুখে কার্যকরভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সরকার অতীতের ভুলগুলো পুনরাবৃত্তি করার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির প্রভাবশালী সংসদীয় হিসাব নিরীক্ষা কমিটি। শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কমিটি বলেছে, আশ্রয় ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা উদ্বেগজনক এবং এর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ অনেকাংশেই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব ব্যক্তির আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে তাদের সবাইকে নজরদারির আওতায় রাখতে পারছে না স্বরাষ্ট্র বিভাগ। ফলে কতজন প্রত্যাখ্যাত আবেদনকারী এখনও দেশে অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে সরকারের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। কমিটি এই পরিস্থিতিকে বিস্ময়কর ও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে।

কমিটির চেয়ারম্যান বলেছেন, দিকনির্দেশনাহীন প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে অনেক আশ্রয়প্রার্থী দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে থাকছেন, আবার অনেকের অবস্থানই কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট নয়। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি সমাধানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

প্রতিবেদনে প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি যাদের সঙ্গে সরকারের নিয়মিত যোগাযোগ নেই, তাদের খুঁজে বের করার কৌশল এবং অবৈধভাবে কাজ করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার পরিকল্পনাও জানতে চেয়েছে কমিটি।

আশ্রয় ব্যবস্থা পরিচালনায় সরকারের ব্যয়ও প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উঠে এসেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৯০ কোটি পাউন্ড। এর মধ্যে ৩৪০ কোটি পাউন্ড ব্যয় হয়েছে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন ও সহায়তা প্রদানে। এই বিপুল ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে হোটেলভিত্তিক আবাসন ব্যবস্থার সব চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মুনাফা যৌক্তিক পর্যায়ে রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা যায়।

অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র বিভাগ দাবি করেছে যে আশ্রয় ব্যবস্থা সংস্কারের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তাদের মতে, আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য হোটেল ব্যবহারের হার কমছে, আবেদন নিষ্পত্তির সংখ্যা বাড়ছে এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় উন্নতি হচ্ছে।

সরকার সম্প্রতি আশ্রয় নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আশ্রয় অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের স্থায়ী সুরক্ষার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সুরক্ষা দেওয়া হবে এবং প্রতি ৩০ মাস পরপর তা পুনর্বিবেচনা করা হবে।

এদিকে বিরোধী দলগুলো সরকারের সমালোচনা করে বলেছে, আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, দেশে অবৈধ প্রবেশকারীর সংখ্যা বাড়লেও যাদের থাকার বৈধ অধিকার নেই তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।

তবে সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে আশ্রয়ের আবেদন ৪ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীর সংখ্যা কমে ৬৪ হাজার ৪২৬ জনে দাঁড়িয়েছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়া হোটেলে অবস্থানরত আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যাও ১৯ শতাংশ কমে ৩০ হাজার ৬৫৭ জনে নেমে এসেছে, কারণ তাদের একটি বড় অংশকে দীর্ঘমেয়াদি আবাসনে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আশ্রয় ব্যবস্থার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ, বিপুল সরকারি ব্যয় এবং প্রত্যাখ্যাত আবেদনকারীদের কার্যকর নজরদারির অভাব ব্রিটেনের অভিবাসন নীতিকে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এখন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নিরাপত্তা, মানবিক দায়বদ্ধতা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতার মধ্যে কার্যকর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

লন্ডনে ধেয়ে আসছে করোনার ‘ভয়ংকর’ রূপ ওমিক্রন

অনলাইন ডেস্ক

রুয়ান্ডানীতি নিয়ে কোন পথে এগুচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার

পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত বাড়াবে যুক্তরাজ্য