21 C
London
September 11, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনের স্বার্থে ট্রাম্পের সঙ্গেও দ্বিমত করবেন বার্নহামঃ আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম দেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও মতবিরোধে যেতে তিনি দ্বিধা করবেন না। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, বর্তমানে আগাম সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই; বরং দেশের অর্থনীতি ও জনসেবাকে পুনরুজ্জীবিত করাই তার প্রধান লক্ষ্য।

বার্নহামের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন তার পূর্বসূরি স্যার কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক নানা ইস্যুতে টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।

ক্ষমতা গ্রহণের পর সোমবার প্রথমবারের মতো টেলিফোনে কথা বলেন অ্যান্ডি বার্নহাম ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলোচনার পর ডাউনিং স্ট্রিট জানায়, দুই নেতার মধ্যে “অত্যন্ত আন্তরিক” পরিবেশে কথা হয়েছে। পরে ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সরকারকে সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকবে।

তবে ট্রাম্পকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বার্নহাম কূটনৈতিক অবস্থান নেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তাদের মাত্র একবার কথা হয়েছে এবং তিনি মানুষকে তাদের আচরণ ও কাজের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করেন। তার ভাষায়, প্রথম আলোচনা ইতিবাচক ও আন্তরিক ছিল।

এদিকে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্নহাম আগাম সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন আরেকটি নির্বাচনের পরিবর্তে স্থিতিশীল সরকার ও কার্যকর নেতৃত্ব চায়। তার মতে, সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো ব্রিটেনকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনীতি ও জনসেবাকে শক্তিশালী করা।

ক্ষমতায় আসার পরই তিনি সাধারণ মানুষের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে গৃহস্থালির বিদ্যুৎ বিলের ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার এবং লন্ডনের বাইরে পুনরায় £২ বাসভাড়া সীমা চালু করা। সরকারের দাবি, এসব পদক্ষেপ জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ লাঘব করতে সহায়ক হবে।

এছাড়া সরকারের অর্থমন্ত্রী জন হিলি চলতি বছরের বাজেট ঘোষণার আগে সরকারের পূর্ণাঙ্গ অর্থায়ন পরিকল্পনা প্রকাশ করবেন বলে জানানো হয়েছে। সেখানে সরকারের ব্যয়, রাজস্ব এবং অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অ্যান্ডি বার্নহামের প্রথম দিকের বার্তাগুলোতে একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার ইঙ্গিত রয়েছে, অন্যদিকে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে স্বাধীন অবস্থান নেওয়ারও স্পষ্ট সংকেত মিলেছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও অর্থনীতিকে চাঙা করার প্রতিশ্রুতি তার সরকারের প্রথম দিকের নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবে সামনে এসেছে।

সূত্রঃ দ্য মিরর

এম.কে

আরো পড়ুন

গর্ভবতী নারীদেরও কোভিড ভ্যাকসিন গ্রহণের আহ্বান যুক্তরাজ্যে

ট্রাম্পের আক্রমণের জবাবে স্টারমারঃ সাদিক খান চমৎকার কাজ করছেন

একের পর এক চুক্তির পতনঃ ব্যবসায়িক ব্যর্থতায় যুক্তরাজ্যে ফেরার পথে হ্যারি-মেগান